English
ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
মতামত সম্পাদকীয়

সংরক্ষিত আসন: সংখ্যা নয়, দরকার কার্যকর প্রতিনিধিত্ব



ঢাকা, ১৬ অক্টোবর: সংরক্ষিত নারী আসনের উপ-নির্বাচন সামনে রেখে আজ থেকে বিএনপি মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করেছে। নভেম্বরে ভোটের পর মহিলা-২৩ আসনে আবার একজন নারী প্রতিনিধি পাবে সংসদ। সংখ্যার বিচারে খবরটি আশাব্যঞ্জক। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—সংরক্ষিত আসন কি সত্যিই নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পথ খুলে দিয়েছে, নাকি সেটি শুধুই সংখ্যার অলঙ্কার?


সংখ্যা বনাম ক্ষমতা

সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসন নারীদের প্রতিনিধিত্বের একটি সাংবিধানিক নিশ্চয়তা। অথচ বাস্তবতা হলো, এই আসনগুলোতে মনোনয়ন প্রক্রিয়া বরাবরই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। ফলে সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রেই নিজ এলাকার মানুষের কাছে জবাবদিহির বদলে দলের কেন্দ্রের কাছে জবাবদিহি করেন। এতে প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা বাড়ে, কিন্তু প্রতিনিধির স্বাধীন কণ্ঠ কমে।

যে পরীক্ষায় পাস করেনি সংরক্ষিত ব্যবস্থা

আসল পরীক্ষা তো সরাসরি নির্বাচনে। সেখানে নারী প্রার্থীদের জয়ের সংখ্যা এখনো হাতেগোনা। দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ আসনে নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে সংকোচ করে; আর সংরক্ষিত আসনের ‘নিরাপদ’ ব্যবস্থা থাকায় সরাসরি লড়াইয়ের কঠিন পথে হাঁটার প্রণোদনাও কমে যায়। ফলে নারী নেতৃত্বের পাইপলাইন সংরক্ষিত আসনেই আটকে থাকে।

কী হওয়া উচিত

এই উপ-নির্বাচনে বিএনপি রাজপথে সক্রিয়, পরীক্ষিত নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে—এটি ইতিবাচক। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষিত আসনকে সরাসরি নির্বাচনের ‘বিকল্প’ নয়, ‘সিঁড়ি’ হিসেবে দেখতে হবে। দলগুলোকে নারীদের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে, আর সব দলের জন্য একই নিয়ম—সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, এমন প্রার্থীই মনোনয়ন পাবেন। সংখ্যা নয়, দরকার কার্যকর প্রতিনিধিত্ব।