ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
মতামত

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, অস্বচ্ছ চুক্তি (মতামত)

মতামত: এই লেখাটি ডেইলি ওয়াদায় প্রকাশিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মুনিরুল ইসলামের মতামতের ভাবানুবাদ ও সংক্ষিপ্ত রূপ।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, অস্বচ্ছ চুক্তি (মতামত)

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: বাংলাদেশ এখন অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। বাড়তে থাকা জ্বালানি আমদানি বিল, সংকুচিত বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, জলবায়ু-ঝুঁকি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার চাপ—সব মিলিয়ে সৌরসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ অপরিহার্য। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ এই সবুজ রূপান্তরের জন্য জরুরি কাঠামো দিয়েছে। কিন্তু নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়ানো কেবল জাতীয় গ্রিডে গিগাওয়াট যোগ করার বিষয় নয়।

লেখকের মতে, মূল প্রশ্ন হলো: সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের সরকারি ক্রয় কীভাবে উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক, কারিগরিভাবে কঠোর এবং জনগণের অর্থের জন্য লাভজনক রাখা যাবে? অতীতে ভারী দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ও স্ফীত ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা বয়েছে দেশ—সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে হবে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত নীতিটি আগের খণ্ডিত নীতিগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি। তবে নীতির কাগজপত্র একা খুব কমই নিশ্চয়তা দেয়। প্রকৃত স্বচ্ছতার জন্য এই কাঠামোকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কার্যকর হওয়া হালনাগাদ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার সঙ্গে সাবলীলভাবে কাজ করতে হবে—যেখানে সব সরকারি চুক্তিতে ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় প্ল্যাটফর্ম (ই-জিপি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

স্বচ্ছতার পরীক্ষা

লেখক বলেন, পরিবেশবান্ধব তকমা থাকলেই নবায়নযোগ্য প্রকল্প বিশেষ ছাড় পাওয়ার যোগ্য নয়; প্রতিটি চুক্তিকে কঠোর মূল্য-সাশ্রয় মাপকাঠি, প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা শিক্ষণীয়: ভারত সৌর-বায়ুর জন্য বিস্তারিত প্রতিযোগিতামূলক বিডিং নির্দেশিকা তৈরি করেছে, ব্রিটেন নিয়মিত নিলাম করে, জার্মানি বড় প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক নিলামের মূল্য দেখিয়েছে।

বাংলাদেশের ই-জিপি ব্যবস্থা ইতিমধ্যে প্রশংসনীয় অগ্রগতি এনেছে। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে এই ডিজিটাল অবকাঠামোকে সাধারণ ই-টেন্ডারিং ছাড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা প্ল্যাটফর্মে রূপ নিতে হবে। আকর্ষণীয় শুল্কে চুক্তি জিতে প্রত্যাশিত ক্ষমতা দিতে ব্যর্থ ডেভেলপারকে সফল বলা যায় না—নির্মাণের মাইলফলক, যন্ত্রপাতির মান ও গ্রিড সমন্বয় স্বতন্ত্র প্রকৌশলীদের কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে।

প্রতিটি বড় রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রকল্পের স্বতন্ত্র সমাপ্তি-পরবর্তী নিরীক্ষা হওয়া উচিত—ব্যয় বাজেটে ছিল কিনা, প্রকৃত জনমূল্য মিলেছে কিনা। মূল্যায়ন কমিটি ও পরামর্শকদের জন্য কঠোর স্বার্থ-সংঘাত বিধি থাকতে হবে।

চূড়ান্ত লক্ষ্য সরকারি খাতায় সৌর মেগাওয়াট যোগ করার অহংকার নয়—প্রতিটি প্রকল্প থেকে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, বিচক্ষণ সরকারি ব্যয় ও টেকসই জাতীয় অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করা। সুশাসনের জন্য নাগরিকদের ত্যাগের পর অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর আরেক প্রজন্মের বিদ্যুৎ সম্পদের বোঝা দেশ বহন করতে পারবে না।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদা