ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
মতামত

তথ্য কমিশন আবার ফিরল, কিন্তু সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে কে?

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: দীর্ঘ শূন্যতার পর আবার তথ্য কমিশন পেল বাংলাদেশ। শনিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানকে দেশের প্রথম নারী প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তথ্য কমিশনার হয়েছেন দুই সাংবাদিক এস এ এম মাহফুজুর রহমান ও খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এই কমিশন কি সত্যিই সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারবে?

তথ্য কমিশন আবার ফিরল, কিন্তু সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে কে?

তথ্য কমিশন কোনো সরকারি প্রচার দপ্তর নয়। এর কাজ সরকারের নীতি ব্যাখ্যা করা, মন্ত্রীদের পক্ষে সাফাই গাওয়া বা প্রশাসনের সাফল্য প্রচার করা নয়। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এর দায়িত্ব হলো নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার বাস্তবায়ন করা, অভিযোগ তদন্ত করা, তথ্য প্রাপ্তিতে বাধা দূর করা এবং বেআইনিভাবে তথ্য দিতে অস্বীকার করলে সরকারি কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করা।

স্বাধীনতার প্রশ্নে সন্দেহ

কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে সন্দেহের জায়গা রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নির্বাহী বিভাগের ভূমিকা থাকায় কাঠামোগত প্রশ্ন থেকেই যায়—নিয়োগদাতা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কতটা নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কমিশনাররা?

বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে মাহফুজুর রহমানের নিয়োগ। তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তৃতা লেখক। সাংবাদিক হিসেবে তার পেশাগত যোগ্যতা প্রশ্নাতীত হলেও, প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা প্রস্তুতের কাজ থেকে সরকারি গোপনীয়তা তদারকির দায়িত্বে আসা প্রাতিষ্ঠানিক পৃথকীকরণের গুরুত্বকেই তুলে ধরে।

দুর্বল বাস্তবায়নের ইতিহাস

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কমিশনের নেতৃত্ব অকার্যকর হয়ে পড়ে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৮ মাসেও নতুন নিয়োগ দেয়নি। ফলে অভিযোগ শুনানির ব্যবস্থা স্থবির ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার শূন্যপদগুলো উত্তরাধিকারসূত্রে পায়। নিয়োগ দিতে সময় লাগে অক্টোবর পর্যন্ত।

আইনটি আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে ভালো নম্বর পেলেও বাস্তবায়ন দুর্বল। জাতীয় তথ্য পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ হাজার ৬৭৩টি আবেদনের মধ্যে মাত্র ১২১টির জবাব রেকর্ড করা হয়েছে, আর ২৪ হাজার ৪৮৭টি নির্ধারিত সময়সীমা পার করে ফেলেছে। শক্তিশালী আইন থাকলেও দুর্বল প্রয়োগের এই চিত্রই বলে দেয়—কমিশনের আসল পরীক্ষা এখনো বাকি।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদা