ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
জাতীয় সাজেক

সাজেকের উজোবাজারে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ, আটকে দুই হাজার পর্যটক

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বেলা পৌনে ১২টার দিকে শুরু হওয়া গোলাগুলি দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্তও চলছিল বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুর রাকিব। পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র জানার পর বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

সাজেকের উজোবাজারে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ, আটকে দুই হাজার পর্যটক

ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

পুলিশ জানায়, সাজেকের পর্যটন সড়কে চলমান অবরোধ ভাঙার আধা ঘণ্টা পরই এই বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পরপরই উজোবাজার থেকে প্রায় দুই হাজার পর্যটকের একটি বহর এলাকা ছাড়ে। সকাল ৯টার দিকে পর্যটকরা সেনা ও পুলিশ পাহারায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে সাজেক ছাড়েন। কিন্তু সাড়ে ৯টার দিকে অবরোধকারীরা এলাকা দখল করে নিলে বহরটি উজোবাজারে আটকা পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিপেটা করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে বেলা ১১টার দিকে পর্যটকদের বহর আবার যাত্রা শুরু করে।

সাজেকের পর্যটন যানবাহনের লাইনম্যান মোহাম্মদ ইয়াসিন প্রথম আলোকে বলেন, পর্যটকদের গাড়ি সাধারণত সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ির পথে রওনা হয়। অবরোধের কারণে আজ তারা আগেই রওনা দেন এবং নিরাপত্তা পাহারায় প্রায় দুই হাজার পর্যটক নিয়ে যাত্রা করেন।

অনিশ্চিতকালের অবরোধ, বন্ধ সাজেক ভ্যালি

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে আজ থেকে অনিশ্চিতকালের অবরোধের ঘোষণা দেয়। সংগঠন দুটি পর্যটকদের গতকালই সাজেক ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছিল।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক ভ্যালি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। আজ বিকেল ৪টার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিন দফা দাবি ঘিরে টানাপোড়েন

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠন দুটির নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমা। তাঁদের দাবি, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এই দাবিতে প্রথম ১১ অক্টোবর অবরোধ দেওয়া হয়। বাঘাইছড়ি জোনের ডেপুটি কমান্ডার সালমান ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর তা স্থগিত হয়।

দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ১৫ অক্টোবর অবরোধ আবার শুরু হয়। তবে বাঘাইছড়ি ও মাচালং বাজারের দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল।

সর্বশেষ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, সশস্ত্র জেএসএস সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানে থেকে সক্রিয় আছে। মাচালংয়ের থলকুম্ভ, চিলিয়াতুলি কুঠি, নোয়াপাড়া, লম্বাবাক ও ভুয়াছড়ি এলাকায় কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে তারা তৎপর রয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং আতঙ্কে জুমচাষিরা হলুদ ও ঝাড়ুঘাসের বাগান দেখাশোনা করতে পারছেন না। সংগঠনগুলো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে 'লোক দেখানো অভিযান' চালানোর এবং অভিযানের ছদ্মবেশে প্রতিবাদকারীদের হয়রানির অভিযোগও এনেছে। বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র জেএসএস সদস্যদের সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে তারা ঘোষণা করেছে। ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি ওষুধ ও সংবাদপত্রবাহী গাড়ি এবং কর্তব্যরত সাংবাদিকদের যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।