ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুর্কিনা ফাসোর

ওয়াগাদুগু, ১৫ অক্টোবর: র‍্যাম্পের বদলে পরীক্ষার হলে নারীদের ডাকছে বুর্কিনা ফাসো। দেশব্যাপী সব ধরনের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিত করে নারীদের মেধা ও প্রতিভাকে স্বীকৃতি দিতে জাতীয় পর্যায়ে একটি বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশ।

সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুর্কিনা ফাসোর

বন্ধ হলো সুন্দরী প্রতিযোগিতা

গত জুনে সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবমর্যাদা রক্ষার কথা বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিত করে দেয়। নতুন নীতিমালা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত আগস্টে শুরু হয় 'হাকিলি মুসো' নামের জাতীয় প্রতিযোগিতা। লক্ষ্য—বিজ্ঞানে মেধাবী তরুণী ও নারীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়া। গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ৮৪ জন তরুণী। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীরা সবাই ২০২৬ সালে বিজ্ঞান শাখায় ব্যাকালোরেট (উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান) পাস করেছিলেন। মূল পর্বের আগে তাঁরা এক সপ্তাহের প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচিতে যোগ দেন, এরপর তিনটি বিষয়ে পরীক্ষায় বসেন।

বিজয়ীদের জন্য বড় পুরস্কার

প্রতিটি বিষয়ে সেরা পাঁচজনকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম স্থান অর্জনকারীরা পান ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপসহ আরও নানা আকর্ষণীয় উপহার; সঙ্গে ছিল বৃত্তির ব্যবস্থাও।

পরে বিজয়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দেশটির রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম ট্রাওরে। তিনি তাঁদের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখতে, বৈজ্ঞানিক পেশা বেছে নিতে এবং বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করতে উৎসাহ দেন।

এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল—বিজ্ঞানভিত্তিক পেশা শুধু পুরুষের জন্য, এই প্রচলিত ধারণা ভুল প্রমাণ করা এবং আরও বেশি নারীকে বিজ্ঞানের পথে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করা। সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বজায় রেখে বিজ্ঞানে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি কেড়েছে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড