বরিশালের মুলাদী সরকারি কলেজ চত্বরে মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর ও জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে সহপাঠী ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছবি: দ্য ডেলটা লেন্স
ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই সহপাঠীর সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা একসঙ্গে কলেজে যাতায়াত করতেন। কয়েক দিন আগে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়, এর জেরে দুই ছাত্রী ওই সহপাঠীর মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেন।
কী ঘটেছিল
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সহপাঠী বৃহস্পতিবার অন্য এক সহপাঠীর মাধ্যমে দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরে ওই সহপাঠীর বড় বোন নাসরিন আক্তারসহ কয়েকজন বহিরাগত তাদের ওপর হামলা চালান।
লিখিত অভিযোগে দুই ছাত্রী জানান, হামলাকারীরা তাদের চুল ধরে টানাটানি করেন, পেটে লাথি মারেন এবং কিল-ঘুসি ও চড়-থাপ্পড় দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেন। জুতাপেটা করার পাশাপাশি পোশাক ধরে টানাটানি করে তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। এ ছাড়া তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং কলেজে আসা ও পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
লিখিত অভিযোগ ও তদন্ত কমিটি
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিরাপত্তা চেয়ে মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী। অভিযোগ তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, তারা কলেজে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযুক্তের দাবি
তবে অভিযুক্ত ছাত্রীর বড় বোন নাসরিন আক্তার বহিরাগতদের নিয়ে হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ছোট বোনের নামে বদনাম করায় ওই দুই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।