ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
জাতীয় রাজনীতি

ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, খবর অস্বীকার করে গুজব বললেন ইশরাক

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর: অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন খবরে রোববার রাতে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে একাধিক গণমাধ্যম এই খবর প্রকাশ করেছে। তবে ইশরাক হোসেন নিজে এই খবরকে সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন দাবি করে একে গুজব বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, খবর অস্বীকার করে গুজব বললেন ইশরাক

ছবি: টিবিএস

সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে আলাদাভাবে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাত ১০টা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একটি স্ক্রলেও ‘মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর’ লেখাটি প্রচারিত হয়, যা খবরটিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

পেছনের ঘটনা

শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই তিনি এক হাতে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন এবং পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায় ‘একেবারে গুলি করে দেব’। তাঁর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীদের হাতেও অস্ত্র ছিল।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও এ নিয়ে অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়। দল ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে নামা গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার মাত্র এক দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার খবর সামনে আসে।

ইশরাকের দাবি: ‘খবরটি গুজব’

এদিকে রোববার রাতেই ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগের নির্দেশনার খবরকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং তাঁর পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।

ইশরাক হোসেন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে ও সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো অডিও বার্তায় বলেন, ‘এই বিষয়টিকে আপনারা অবশ্যই গুজব হিসেবে ধরবেন। এর কোনো সত্যতা এখনো নেই। এ রকম যদি কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের দল থেকে আমরা নেই, তাহলে সেটি কোনো উড়ো খবরের মাধ্যমে আসবে না—অবশ্যই অফিশিয়াল প্রেস কনফারেন্স করে জানানো হবে।’

আগের দৃষ্টান্ত ও তদন্ত

এর আগে অস্ত্রকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা জানান, অভিযানের বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র দিয়ে জনমনে ভয় সৃষ্টি হয় এমন প্রদর্শন আইনত নিষিদ্ধ।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম জড়িয়ে পড়ায় এর আগে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদ ছাড়তে হয়েছিল। গত ১ অক্টোবর তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রোববার রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, ফলে ইশরাকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।