ছবি: ডেইলি ওয়াদা
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: বাংলাদেশ বেতারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্রোঞ্জ ম্যুরাল নির্মাণের নামে ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান মাহমুদসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান কমিশনের ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাইদুর রহমান খান বলেন, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রকল্পের কোনো উপাদান তখনই পরিবর্তন করা যায়, যখন প্রস্তাবিত উপাদানটি অপরিহার্য হয়। তাঁর ভাষ্য, "ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য নির্মাণ অপরিহার্য ছিল না। নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এটি করা হয়েছে, ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।"
আসামি যারা
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহাপরিচালক এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঁইয়া ও নারায়ণ চন্দ্র শীল; উপকেন্দ্র প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রহমান; সাবেক জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন; প্রকল্প পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার পটভূমি
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের পক্ষে কাজী জাকির হাসান ও মলয় কুমার গাঙ্গুলী বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের আবেদন করেন।
এরপর ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতার ভবনে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক অনুমোদন ও নকশা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ বেতারের কর্মকর্তারা। ওই বছরের ১৯ মে নেছার তথ্য মন্ত্রণালয়ে কমপ্লেক্সের অনুমোদন চেয়ে সুপারিশ পাঠান। পরে বাংলাদেশ বেতারের শাহবাগ কমপ্লেক্স আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর, নতুন ভবন নির্মাণসহ একটি প্রকল্পের আওতায় ম্যুরাল স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একাধিক বৈঠকে আলোচনা হয়।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা