ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
কক্সবাজার জাতীয়

ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০, লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল ভবনটি

কক্সবাজারের ইনানীতে তিনতলা কাঠের রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে লাগা আগুনে ভবনটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রিসোর্টটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্সই ছিল না।

ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০, লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল ভবনটি

ছবি: ওয়ার্ডপ্রেস ফটো ডিরেক্টরি (সিসি০)

যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকায় এই রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। সমুদ্রের জোরালো বাতাসে আগুন মুহূর্তেই কাঠ ও বাঁশের ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সকাল আটটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়।

দ্বিতীয় তলার দুটি শৌচাগারে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের স্বেচ্ছাসেবী সাইফুল ইসলাম বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, প্রাণ বাঁচাতে অনেকে শৌচাগারে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়। শিশুসহ কয়েকজন পর্যটক মারা গেছেন।

নিহতদের পরিচয়

নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। প্রথম আলোর বরাতে এপি জানিয়েছে, তারা হলেন—ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিস্তা মিম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান আহমেদ। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিক রহমান মজুমদার ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল রিসোর্ট

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, রিসোর্টটিতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার অ্যালার্ম বা কোনো অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা ছিল না—এমনকি অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্সও ছিল না। ভবনটি মাত্র সাত-আট মাস আগে নির্মিত হয়েছিল এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তদন্ত কমিটি ও মামলা

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে; সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রক-ব্যর্থতাও খতিয়ে দেখা হবে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এদিকে উখিয়া থানা পুলিশের দায়ের করা মামলায় রিসোর্টের মালিক তানভীর ও ব্যবস্থাপক সুমনকে আসামি করা হয়েছে। সুমনকে শনিবার বিকেলে আটক করা হয়; রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মালিক তানভীর ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

সূত্র: এপি, রয়টার্স