ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক ভেনেজুয়েলা রাজনীতি

প্রায় দুই বছর পর ভেনেজুয়েলায় দেশজুড়ে বিরোধী বিক্ষোভ, নির্বাচনের দাবি

হাজারো ভেনেজুয়েলীয় বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমেছেন অবাধ নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে। প্রায় দুই বছরের মধ্যে এটাই দেশজুড়ে বিরোধীদের প্রথম বিক্ষোভ, যা কারাকাসসহ একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রায় দুই বছর পর ভেনেজুয়েলায় দেশজুড়ে বিরোধী বিক্ষোভ, নির্বাচনের দাবি

ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

বিক্ষোভের আয়োজন করে বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ভেন্তে ভেনেজুয়েলা আন্দোলন। রাজধানী কারাকাসের পাশাপাশি ভালেন্সিয়া, মারাকাই, সান ক্রিস্তোবাল ও মারাকাইবো শহরেও বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। তাঁরা ভেনেজুয়েলার পতাকা নেড়ে স্লোগান দেন।

উত্তরের মারাকাই শহরে জড়ো হওয়া ১৮ বছর বয়সী কসমেটোলজির ছাত্রী লেওসমারি হার্নান্দেজ বলেন, এ দৃশ্য দেখে তিনি খুশি, কারণ তিনি জানেন পরিবর্তন সম্ভব। ডলারের দাম, পড়াশোনার সংকটসহ অনেক কষ্টের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের পরের নেতা হিসেবে মাচাদোর ওপর তাঁর অনেক আশা। আগের কঠিন সময়েও তিনি বিক্ষোভে নেমেছিলেন, আর এখন নিজের কথা শোনাতে আগের চেয়ে কম ভয় পান।

জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রদ্রিগেজ দুজনেই নির্বাচন হবে বলেছেন, তবে আইনসভা বা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করেননি। মাচাদো বলেছেন, ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন হতেই হবে।

একই দিনে ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দলও তাদের সমর্থকদের মিছিলের ডাক দেয়। কারাকাসের প্লাজা ভেনেজুয়েলা থেকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছ পর্যন্ত ওই মিছিল স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়। বিরোধীদের জমায়েতের নির্ধারিত জায়গাতেই ক্ষমতাসীনদের মিছিল শুরু হওয়ার কথা ছিল, পরে বিরোধী সমর্থকেরা কাছের আরেক জায়গায় সরে যান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়োকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ক্ষমতাসীনদের মিছিলে দেখা যায়।

১৯৯৯ সালে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের হাত ধরে ক্ষমতায় আসা সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দমন, চড়া মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল জনসেবার অভিযোগের মুখে আছে। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পরও এ ধরনের অভিযোগ ওঠে। বিরোধীদের প্রকাশ করা ফলাফল অনুযায়ী ওই নির্বাচনে মাচাদোর প্রক্সি প্রার্থী বিপুল ভোটে জিতেছিলেন বলে দাবি করা হয়, তবে সরকার পূর্ণ ফল প্রকাশ করেনি এবং মাদুরোকেই বিজয়ী বলে সমর্থন করে।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আলোচনায় এখন সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন পরিষদ পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে, যাতে ভবিষ্যৎ নির্বাচন আরও নিরপেক্ষ হয়। এই আলোচনার সর্বশেষ বৈঠক চলতি মাসেই হয়েছে, তবে পরিবর্তন আসতে অনেক সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। মাচাদোর আন্দোলন ওই আলোচনায় নেই, তবে তিনি বলেছেন, আলোচনার অগ্রগতিতে তিনি বাধা দেবেন না। বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিও জানান। আইনি অধিকার সংগঠন ফোরো পেনালের হিসাবে এখনো ৩২০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দি আছেন, যদিও সরকার রাজনৈতিক বন্দি থাকার কথা অস্বীকার করে এবং আইনসভা সমর্থিত ক্ষমা আইনকে উদার বলে দাবি করে।

সূত্র: রয়টার্স