পর্তুগালে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত ড. এসএম কামরুল হাসান সোমবার লিসবনের বেলেম প্রাসাদে পর্তুগালের প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। ১৯ অক্টোবরের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্তুগালে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
ছবি: ডেইলি ওয়াদা
লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, পরিচয়পত্র পেশের পর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, ঢাকায় পর্তুগালের একটি স্থায়ী দূতাবাস থাকলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
ঢাকায় দূতাবাস ও সরাসরি ফ্লাইটের আহ্বান
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত হাসান ঢাকায় পর্তুগালের স্থায়ী দূতাবাস খোলার অনুরোধ জানান। তিনি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর প্রস্তাব দেন, যা জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান বাড়াবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ ২০১২ সালে লিসবনে স্থায়ী দূতাবাস খোলে; তবে পর্তুগাল এখনও নয়াদিল্লির দূতাবাসের মাধ্যমেই বাংলাদেশের দায়িত্ব সামলাচ্ছে।
নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন সহজ করতে দ্বিপক্ষীয় গতিশীলতা কাঠামো বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অবদানের স্বীকৃতি দেন এবং পর্তুগিজ সমাজে তাদের একীভূত হওয়ার বিষয়টির প্রশংসা করেন।
বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রস্তাব
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দূর করার ওপরও জোর দেন রাষ্ট্রদূত। জাতিসংঘের কমট্রেডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও পর্তুগালের মধ্যে পণ্য বাণিজ্য ছিল ১৪ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের। এর মধ্যে বাংলাদেশ পর্তুগালে ১৩ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, বিপরীতে আমদানি করেছে মাত্র ৯৯ লাখ ডলারের পণ্য।
বাংলাদেশের রপ্তানির বড় অংশজুড়ে ছিল তৈরি পোশাক—নিট ও নন-নিট পোশাকে প্রায় ১১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার—এছাড়া মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ডলারের। অন্যদিকে পর্তুগাল থেকে বাংলাদেশে প্রধানত ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও মানবসৃষ্ট তন্তু আমদানি হয়েছে।
বহুমাত্রিক সহযোগিতা
বৈঠকে সামুদ্রিক বিষয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে লিসবন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা