রাওয়ালপিন্ডিতে ইতিহাস গড়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। হ্যারি ব্রুকের রেকর্ডগাথা ডাবল সেঞ্চুরি বৃথা গেছে, ৪৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নিয়েছে লঙ্কানরা। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটাই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া।
ছবি: প্রথম আলো
বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে তুলেছিল ৪২৯ রান। তৃতীয় উইকেটের খেলায় ইংলিশদের বড় সংগ্রহের নেপথ্যে ব্রুকের ঐতিহাসিক ইনিংস। ১১৬ বলে ২০২ রান করে তিনি ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করা প্রথম ইংলিশ ব্যাটার হয়েছেন। মাত্র ১১৪ বলে দ্বিশতকে পৌঁছে ভারতের শুবমান গিলের ১১৭ বলের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। ইনিংসে ছিল ২১টি চার ও ১০টি ছক্কা। ইনিংসের শেষ বলে জনিথ লিয়ানাগের বলে সাহান আরাচ্চিগের ক্যাচে ফিরেছেন ব্রুক। জো রুট ৬৬ বলে ৬৯ এবং উইল জ্যাকস মাত্র ৩০ বলে অপরাজিত ৬৬ রান করে ইংল্যান্ডের রান পাহাড়ে অবদান রেখেছেন।
জবাবে শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে অভিষ্কা ফার্নান্দো ও পবন রথনায়কের দারুণ জুটি ম্যাচে ফেরায় দলকে। ফার্নান্দো ৮৩ বলে ৯৭ রান করে সেঞ্চুরি মিস করেছেন, রথনায়ক খেলেছেন ১০৬ বলে ১৩০ রানের চমৎকার ইনিংস। এরপর দাসুন শানাকা মাত্র ৫০ বলে ৯৭ রান করে, আটটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তিন রান দূরে তিনিও সেঞ্চুরি মিস করেছেন। শেষ দিকে জনিথ লিয়ানাগের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৩০ রানের লক্ষ্য পূর্ণ করে শ্রীলঙ্কা।
দুই দলই এই ম্যাচের আগে স্বাগতিক পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল। সালমান আগার সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান ৩৭ রানে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে, আর ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছিল মিনহাসের ঝলক। তাই দুই দলের কাছেই এটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচ, যেখানে শেষ হাসি হাসল লঙ্কানরা।
ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার, ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৫ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৪৩৮ করে জিতেছিল প্রোটিয়ারা। শ্রীলঙ্কার এই জয় সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স