দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা এবার সম্পূর্ণ নিজেদের করে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। গকেবেরহায় মার্কো ইয়ানসেনের পাঁচ উইকেট শিকারের দাপটে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে গেল ৪২ দশমিক ৪ ওভারে। এরপর ফলোঅনে নেমে দিন শেষে ১৫৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে এখনও ১৭০ রানে পিছিয়ে আছে বাগি গ্রিনরা, সামনে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা।
ছবি: স্কাই স্পোর্টস
প্রথম ইনিংসে ৪২৫ রানে ৯ উইকেট নিয়ে ডিক্লেয়ার করার পর দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে ছিল ৩২৬ রানে। ব্যাট হাতে ১০০ বলে ৮৫ রানের ঝলকানি দেখানোর পর বল হাতে ইয়ানসেন মাত্র ৩৩ রানে নেন পাঁচ উইকেট। চোট থেকে ফেরা কাগিসো রাবাদা ৩৩ রানে দুটি ও অলরাউন্ডার উইয়ান মুল্ডার মাত্র ১৪ রানে দুটি উইকেট নেন।
অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটার বিশের বেশি রান করতে পারেননি স্টিভ স্মিথ ছাড়া। ঘাড়ের চোট নিয়েই খেলা স্মিথ সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন। ওপেনার নিক ম্যাডিনসন শূন্য রানে ফেরেন, উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স কেরিসহ পাঁচজন ব্যাটার আউট হন এক অঙ্কের স্কোরে। এই সিরিজে বাভুমার নেতৃত্বেই মোড় নিয়েছে ম্যাচ, যিনি ১১০ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দলকে টেনে তুলে ক্যারিয়ারসেরা ৩৩৪ বলে ১৭৯ রান করেন। অষ্টম উইকেটে সাইমন হার্মারের সঙ্গে তাঁর জুটি থেকে আসে রেকর্ড ১৮৩ রান।
ফলোঅনে নেমে ট্রেভিস হেড অপরাজিত ৮৭ রানে দলকে সামলে রেখেছেন, ১৩৮ বলের ইনিংসে মেরেছেন নয়টি চার। দ্বিতীয় উইকেটে মারনাস লাবুশেনের সঙ্গে তাঁর ৯২ রানের জুটি ভাঙেন হার্মার, লাবুশেন ডিপ মিড অনে ধরা পড়েন ইয়ানসেনের হাতে। রাবাদার বলে কোনো শট না খেলে ১১ রানে বোল্ড হন ম্যাট রেনশ। দিন শেষের ঠিক আগে হার্মারের বলে লেগ বিফোর হন বো ওয়েবস্টার। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা স্কট বোল্যান্ড অপরাজিত আছেন ২ রানে, যিনি প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট।
ঘাড়ে আঘাত পাওয়া স্মিথ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামেননি, প্রথম টেস্টেও একই ঘটনার পর তাঁকে ফের কনকাশন টেস্ট দিতে হবে। উল্লেখ্য, ডারবানে প্রথম টেস্টে ২১৪ রানে হারার পর এই সিরিজে সমতা আনতে চাইছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পঞ্চম ও শেষ দিনে অজিদের সামনে শুধু পরাজয় এড়ানোই নয়, আত্মবিশ্বাস ফেরানোর কঠিন পরীক্ষা।
সূত্র: স্কাই স্পোর্টস