ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক ভারত

পশ্চিমবঙ্গে তিন খ্রিস্টান পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, পুলিশ মোতায়েন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা এলাকায় তিনটি খ্রিস্টান পরিবারের ওপর হামলা ও ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করেছে এবং তাদের বাড়ির কাছে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে তিন খ্রিস্টান পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, পুলিশ মোতায়েন

ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে চন্দ্রকোনা থানা এলাকার পাটলাপুর গ্রামে। ওই তিন পরিবার এলাকায় প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছে এবং প্রায় ১৮ মাস আগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৮ ও ১৯ অক্টোবর স্থানীয় একদল লোক তাদের ওপর চড়াও হয় এবং খ্রিস্টধর্ম ত্যাগের জন্য চাপ দেয়।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ৪০ বছর বয়সী এক নারী ও তাঁর ৫০ বছর বয়সী স্বামীকে ঘর থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয়। ওই নারীর পরনের কাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর গায়ে জল ঢেলে ও মুখে তুলসী ও বেলপাতা দিয়ে তথাকথিত শুদ্ধিকরণ করানো হয় বলে অভিযোগ। একই সময়ে আরেক পরিবারের এক নাবালিকাকেও মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। পুলিশের বরাতে জানা গেছে, হামলার পর ওই নারী কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারিয়েছিলেন।

পূজামণ্ডপে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর পরিবারগুলো পুলিশের জরুরি নম্বরে ফোন করলে পরদিন সকালে হামলাকারীরা ফের আসে। তখন তাদের প্রায় দশ মিনিট দূরের একটি দুর্গাপূজা মণ্ডপে নিয়ে গিয়ে জোর করে পুষ্পাঞ্জলি দিতে ও প্রসাদ খেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়িতে ঢুকে নগদ টাকা লুটের অভিযোগও রয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভুক্তভোগীরা চন্দ্রকোনা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যাচেষ্টা, অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন, নারীর শ্লীলতাহানি ও ডাকাতিসহ একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নয়জন ভুক্তভোগীকে থানায় নিয়ে গিয়ে অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং পরে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। তাদের নিরাপত্তায় এলাকায় পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা অবশ্য বলছেন, পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং ফের হামলার আশঙ্কা করছেন।