দুর্গাপূজার কয়েকটা দিন শান্তিতে কেটেছে সাজেকে। কিন্তু সেই স্বস্তি টিকল না বেশিদিন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে সাজেক সড়কে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হতে যাচ্ছে। এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের আজ বুধবারের মধ্যেই পর্যটনকেন্দ্রটি ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন
বুধবার বিকেল চারটার দিকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবরোধের ঘোষণা আসে। বিবৃতি দেন সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।
তিন দফা দাবি, সশস্ত্র গ্রুপ নিয়ে অভিযোগ
দাবি তিনটির কেন্দ্রে এলাকার নিরাপত্তা। সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি। বিবৃতিতে বলা হয়, বাঘাইহাট ও মাচলং বাজারের দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের অবরোধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
সশস্ত্র গ্রুপ নিয়ে তাদের অভিযোগ বেশ সুনির্দিষ্ট। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে। কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে মাচলং এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়িতে প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চলছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করা হয়েছে। গ্রামবাসীর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভয়ে জুমচাষিরা জুমে গিয়ে কাজও করতে পারছেন না। এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন নেতারা।
আগের অবরোধ, আগের ভোগান্তি
এ নিয়ে তৃতীয় দফা। গত ১১ অক্টোবর সকাল থেকে এই দুই সংগঠন সাজেক সড়কে প্রথমবার অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেছিল। ওই দিন বিকেলেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়ায় অবরোধ স্থগিত করা হয়। নির্ধারিত সময়ে দাবি পূরণ হয়নি, এই অভিযোগে ১৫ অক্টোবর তারা আবারও অবরোধে যায়। পূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত ছিল।
আগের অবরোধে ভোগান্তি ছিল প্রকট। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রীজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়। স্থানীয় চাষিরা জুমের ফসল বিক্রি করতে পারেননি। সাজেক ইউনিয়নের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছিল। অবরোধ এবার দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এর আগে ১৫ অক্টোবর রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছিল। নতুন করে অবরোধ ঘোষণায় সাজেকের সড়ক যোগাযোগ ও পর্যটন আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ল। অবরোধ চলাকালে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও মরদেহবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহ, সংবাদপত্র বহনকারী যান এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।