সার্বিয়ায় ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে মারধর, সাইবার হামলা ও হুমকির অভিযোগ ঘনিয়ে উঠেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মী, ছাত্র ও বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলে দেশটির এমন এক চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে সমালোচকদের হুমকি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কমে যাওয়া এবং দুর্নীতি বাড়ার অভিযোগ উঠছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুচিচ ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পর এবার প্রধানমন্ত্রী পদে লড়ছেন।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
এই চ্যালেঞ্জের কেন্দ্রে রয়েছে ছাত্র আন্দোলন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর এই আন্দোলন শুরু হয়। ছাত্ররা রোববারের নির্বাচনে ২৫০ জন প্রার্থী দিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এই সপ্তাহের একটি জরিপে ছাত্রদের তালিকা ভুচিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির সঙ্গে প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য রয়েছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের ২০২৬ সালের সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে সার্বিয়ার অবস্থান ১০৪তম, যা দেশটির জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নিচে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বলকান অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। ছয়জন সার্বিয়ান সাংবাদিক নিরাপত্তা হুমকির কারণে নির্বাসনে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে চারজন চলতি বছর দেশ ছেড়েছেন। স্লাভকো চুরুভিয়া ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ভুচিচ ১৮২ বার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মৌখিক আক্রমণ করেছেন। ভুচিচ ভয় দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তিনি কোনো সংবাদমাধ্যম বন্ধ করেননি।
সাইবার হামলার অভিযোগও উঠেছে। শেয়ার ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে ১৪ জনকে উন্নত স্পাইওয়্যার দিয়ে লক্ষ্য করা হয়। বিক্ষোভ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ইয়েলেনা কন্টিচ বলেছেন, মার্চে অ্যাপল তাঁকে জানায়, তাঁর ফোনে পেগাসাস স্পাইওয়্যার বসানো হয়ে থাকতে পারে। সিটিজেন ল্যাবের পরীক্ষায় বিষয়টি নিশ্চিত হয় বলে তিনি জানিয়েছেন। সার্বিয়ার নিরাপত্তা তথ্য সংস্থা রাষ্ট্রীয় জড়িত থাকার দাবিকে তুচ্ছ চাঞ্চল্য বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আনা ব্রনাবিচ বলেছেন, ছাত্রদের একেবারেই নজরদারি করা হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, এসব সংক্রমণের জন্য কে দায়ী, তা তারা নির্ধারণ করতে পারেনি। পেগাসাসের নির্মাতা এনএসও গ্রুপ বলেছে, তারা শুধু সরকারের কাছে এই প্রযুক্তি বিক্রি করে।
রাস্তায় বলপ্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে। ২৬ বছর বয়সী স্থপতি দুসান রাদোভিচ গত বছরের আগস্টে ভালিয়েভো শহরে পড়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে সাহায্য করছিলেন। তখন দাঙ্গা পুলিশ তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করে, লাথি মারে এবং একপর্যায়ে তাঁর মাথায় পা রাখে বলে তিনি রয়টার্সকে জানিয়েছেন। রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে মারধরের দৃশ্য ধরা পড়ে, আর দুই মাস তাঁকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয়েছে। এক স্বাধীন ফরেনসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন রাতে ২৫ জন, তাঁদের মধ্যে কিছু অপ্রাপ্তবয়স্কও ছিল, গুরুতর মারধরের শিকার হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঘাতগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং শাস্তিমূলক পুলিশি বর্বরতার একটি সুসংগঠিত ধারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি। ভুচিচ ও তাঁর দল দমনপীড়ন ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে, আর তাঁর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
সূত্র: রয়টার্স