বুধবার দিবাগত রাত এগারোটার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন আলম শেখ। বয়স ৪১। সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনরা তাঁকে থামিয়ে জানতে চাইলেন, হাসপাতালে কেন এসেছেন। তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারলেন না। সন্দেহ জাগল, তিনি হয়তো 'শিশু চোর'। আর সেই সন্দেহই ডেকে আনল ভয়াবহ পরিণতি।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে আলম শেখকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের নিচে নামিয়ে নেন। এরপর তাঁর ওপর শুরু হয় বেধড়ক মারধর। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর দেওয়া হয়। শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
কে ছিলেন আলম শেখ
পুলিশের ভাষ্য, আঙুলের ছাপ মিলিয়ে আলম শেখের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তিনি রাজধানীর রূপনগরের টিনশেড এলাকায় থাকতেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর জানা যায়, আলম শেখ মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। এর ওপর তিনি মস্তিষ্কে স্ট্রোকেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক রিমন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, পরিবার জানিয়েছে, আলম শেখের মানসিক ভারসাম্য ঠিক ছিল না।
অসুস্থ, মানসিক ভারসাম্যহীন একজন মানুষের ওপর 'চোর' সন্দেহে এভাবে হামলা চালানো নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। হাসপাতালের মতো একটি স্পর্শকাতর জায়গায় এমন গণপিটুনি কীভাবে ঘটল, সেটিও ভাবাচ্ছে অনেককে।
একজন আটক
ঘটনার পর পুলিশ এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, 'ঘটনার হোতাকে আমরা আটক করেছি। নিহতের পরিবারের অভিযোগ নেওয়া হয়েছে।' তিনি জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আলম শেখের মরদেহ নিতে তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এসে পৌঁছালে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।