সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার এই দাবি জানানো হয়।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
বিবৃতিতে এইচআরএসএস জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলোকে কিছুই জানানো হয়নি বলে গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে, তা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। কনস্যুলার সহায়তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে কি না, তা নিয়েও সংস্থাটি প্রশ্ন তুলেছে।
দুজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচার ও সাজার পূর্ণ বিবরণ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলো পুরোপুরি প্রকাশের দাবি জানিয়েছে এইচআরএসএস। এই ঘটনায় কোনো দায়িত্বহীনতা বা সমন্বয়হীনতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে মোট পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মামলা, বিচার, রায় ও মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত সব নথি সংগ্রহ করে জনসমক্ষে প্রকাশ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাখ্যা এবং অবহেলা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা।
বিশ্বের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি বাংলাদেশিদের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ এবং মৃত্যুদণ্ড বা গুরুতর ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি নাগরিকদের যোগ্য আইনজীবীর সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানায় সংস্থাটি। এ ছাড়া নিহত দুই বাংলাদেশির পরিবারকে তথ্য ও সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক চ্যানেলে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না
ইজাজুল ইসলাম বলেন, প্রবাসী নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এই ঘটনায় কোনো অবহেলা বা ব্যর্থতা থাকলে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নাজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গত ১৪ অক্টোবর মক্কায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এইচআরএসএস আরও জানায়, বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের বিচার ও সাজা প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাসগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।