গাজা উপত্যকায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়িতে হামলায় একজন নিহত হন। দক্ষিণের খান ইউনিসে বাইকে চড়া আরেক ব্যক্তি এবং উত্তরে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের কাছে গুলিতে এক নারী নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ছবি: রয়টার্স
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গাড়িটিতে হামলার পর জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের চারপাশে ভিড় জমে যায়। কমলা রঙের ভেস্ট পরা জরুরি কর্মীরা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আল-জাজিরা ও কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক আল-শিফা হাসপাতালের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, গাড়িতে হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। হারেতজ ও টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত চার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা খান ইউনিসে হামাসের একজন যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সেনাবাহিনী। জাবালিয়া ও তেল আল-হাওয়ার ঘটনাগুলো তারা খতিয়ে দেখছে বলে জানানো হয়েছে।
গত বছরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, এক বছর আগের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামাস পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ করছে ও হামলা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। তবে হামলা চালানো বা অস্ত্রভান্ডার পুনর্গঠনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে হামাস। তাদের অভিযোগ, গাজা শান্তি চুক্তি ক্ষুণ্ণ করছে ইসরায়েল।
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপত্যকাটির পুনর্গঠনের কথা থাকলেও তাতে তেমন অগ্রগতি হয়নি। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন আলোচকরা।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে উপত্যকায় অন্তত এক হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলায় প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলের অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল, হারেতজ