ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
পর্যটন লাইফস্টাইল

পূজার ছুটিতে ভরপুর পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল রিসোর্টে জায়গা নেই

দুর্গাপূজার পাঁচ দিনের ছুটিতে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমেছে। গাজীপুর, কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও বান্দরবানের হোটেল ও রিসোর্ট প্রায় পুরোপুরি ভর্তি। শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা করা অনেক পর্যটক এখন থাকার জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না।

পূজার ছুটিতে ভরপুর পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল রিসোর্টে জায়গা নেই

ছবি: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

ছুটি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। সরকারি কর্মচারীরা আগামী শনিবার পর্যন্ত ছুটিতে থাকবেন। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেয়ারবাজার ও আদালতও বন্ধ। এই লম্বা বিরতি পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্য বছরের অন্যতম ব্যস্ত সময় হয়ে উঠেছে।

ঢাকার আশপাশের রিসোর্টগুলোতে চাপ সবচেয়ে বেশি। ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা এবং সারা রিসোর্ট আগামী শনিবার পর্যন্ত রাতের থাকার সব কক্ষ বুকড। ড্রিম স্কয়ার রিসোর্টে অল্প কিছু কক্ষ খালি আছে। মুন্সীগঞ্জের অ্যাম্বার নিবাসও পুরোপুরি ভর্তি।

বেসরকারি চাকরিজীবী মো. রহমান এই সংকট নিজে টের পেয়েছেন। পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ঢাকার কাছে কোনো রিসোর্টে খালি কক্ষ পাননি। এক বন্ধু নিজে রিসোর্টের মালিক হয়েও তাঁকে কক্ষ দিতে পারেননি। কারণ সব ইউনিট আগেই বুক হয়ে গিয়েছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শেষ পর্যন্ত তিনি অন্য জায়গায় বুকিং পান।

কক্সবাজারে হোটেল ও মোটেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ বুক হয়ে গেছে। মঙ্গলবার থেকে পর্যটকরা সমুদ্রসৈকতে ভিড় করছেন। সমুদ্রস্নান, ঘোড়ায় চড়া, বিচ বাইকিং এবং জেট স্কিইংয়ে মেতে উঠেছেন তাঁরা। কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানিয়েছেন, ছুটির শুরুতে লাখ লাখ পর্যটক এসেছেন।

তাঁর হিসাবে, পাঁচ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ পর্যটক আসবেন। মোট সংখ্যা সাত লাখ ছাড়িয়ে যাবে। শহরে ৫০০টির বেশি হোটেল, মোটেল ও কটেজ আছে। মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝরনা, দরিয়ানগর, ইনানি ও পাটুয়ারটেকেও পর্যটকরা যাচ্ছেন। লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে সি সেফ লাইফগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশ ও জেলা পুলিশ সৈকতসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আহিদুর রহমান। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও হয়রানি ঠেকাতে পর্যটন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি চলছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কুয়াকাটায় হোটেলগুলো প্রায় পূর্ণ। আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আয়োজিত দুই দিনের পর্যটন কার্নিভালকে সামনে রেখে হোটেলগুলোতে চাপ আরও বেড়েছে। কুয়াকাটা হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানিয়েছেন, বড় হোটেলগুলো প্রায় শতভাগ বুকড। কার্নিভাল উপলক্ষে ২৩ অক্টোবর সব হোটেলে কক্ষ ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।

কুয়াকাটায় প্রায় ৩০০ হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস আছে। এর মধ্যে ১০৭টি সমিতির সদস্য। এসব স্থাপনায় একসঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার অতিথি থাকতে পারেন।

বান্দরবানেও বেশির ভাগ হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট আগেই বুক হয়ে গেছে। সরাসরি গিয়ে কক্ষ খোঁজা পর্যটকদের সস্তা থাকার জায়গা নিতে হচ্ছে, কিংবা আত্মীয়ের বাসায় থাকতে হচ্ছে। চাহিদা এত বেশি যে বেশির ভাগ রিসোর্ট মালিক ছুটির সময় ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগে থেকে বুকিং না থাকলে পছন্দের জায়গায় থাকা কঠিন হবে।