মার্কিন ফেডারেল আদালতের এক বিচারক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিবিসির বিরুদ্ধে করা তাঁর ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলায় জবানবন্দি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বেঞ্চ থেকে দেওয়া এই নির্দেশের কথা জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিবিসির আইনজীবীদের প্রশ্নের মুখে শপথ নিয়ে জবাব দিতে হবে ট্রাম্পকে।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
মামলাটি ফ্লোরিডার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। ট্রাম্পের অভিযোগ, বিবিসির প্যানোরামা তথ্যচিত্রে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি দেওয়া তাঁর ভাষণের দুটি আলাদা অংশ এমনভাবে জোড়া লাগানো হয়েছিল, যাতে মনে হয় তিনি সমর্থকদের মার্কিন ক্যাপিটলে হামলা চালাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিবিসি সম্পাদনাটি বিভ্রান্তিকর ছিল বলে স্বীকার করেছে এবং এ জন্য ক্ষমা চেয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি মানহানির দায় অস্বীকার করেছে।
ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক এনজোলিক লেট বৃহস্পতিবারের শুনানিতে এই নির্দেশ দেন। এর আগে অক্টোবরে নির্ধারিত জবানবন্দি বাতিল করা হয়েছিল। ট্রাম্পের পক্ষ তখন বলেছিল, প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের সঙ্গে তার সংঘাত রয়েছে। বিবিসির আইনজীবীদের অভিযোগ, ট্রাম্পের পক্ষ প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় তথ্য আদানপ্রদানে গড়িমসি করছে। আদালতের নির্দেশের পর বিবিসির আইনজীবীরা এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের বক্তব্য নিতে পারবেন।
বিবিসি ট্রাম্পের মার-এ-লাগো ক্লাবের আর্থিক নথি এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোর তথ্যও চাইছে। বিবিসির যুক্তি, ক্ষতিপূরণের দাবির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এসব তথ্য প্রয়োজন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলছেন, এই চাহিদা অতিরিক্ত বিস্তৃত এবং মামলার সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক। তাঁরা জবানবন্দি এড়ানোর অভিযোগও অস্বীকার করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ও নিরাপত্তার প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এই মামলা সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের করা একাধিক ব্যক্তিগত মামলার একটি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে একে অপছন্দের সংবাদ পরিবেশনের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এটি প্রতিবেদনের মূল্যায়ন, আদালতের রায়ের অংশ নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের আইনজীবী দল এবং বিবিসি, উভয় পক্ষই মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। তথ্যচিত্রটি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে প্রচারিত হয়েছিল, যে নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হন। পরে বিবিসির একটি অভ্যন্তরীণ মেমো ফাঁস হলে সম্পাদনা নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রশ্ন ওঠে এবং প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চ পর্যায়ে পদত্যাগের ঘটনা ঘটে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স