ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
জর্জিয়ার সাংবিধানিক আদালত দেশের পাঁচটি প্রধান বিরোধী দল নিষিদ্ধ করার মামলার শুনানি শুরু করেছে। বুধবার কৃষ্ণসাগর তীরের বাটুমি শহরে এই শুনানি শুরু হয়। আদালত তিন দিন ধরে মামলাটি পর্যালোচনা করবে। ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিম দল প্রায় এক বছর আগে এই মামলা করেছিল।
মামলার রায় জর্জিয়ায় চূড়ান্ত হবে, এর বিরুদ্ধে দেশের ভেতরে আপিলের সুযোগ নেই। আদালতকে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। জর্জিয়ান ড্রিম ২০১২ সাল থেকে ক্ষমতায় আছে। দলটির দাবি, এই দলগুলো সাংবিধানিক ব্যবস্থার প্রতি সত্যিকারের হুমকি তৈরি করছে।
বিরোধী দলগুলো বলছে, ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। সেই নির্বাচনে জর্জিয়ান ড্রিম জয়ী হওয়ার পর থেকে বিরোধীদের ওপর চাপ বেড়েছে বলে তাদের অভিযোগ। নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো বলছে, এই মামলা দেশকে একদলীয় শাসনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
মামলায় নাম থাকা আহালি কোয়ালিশন ফর চেঞ্জের পররাষ্ট্র সচিব গিওর্গি বুটিকাশভিলি বলেছেন, এই রায় জর্জিয়ার সমাজের বড় অংশকে প্রকৃত রাজনৈতিক পছন্দ থেকে বঞ্চিত করবে এবং দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার চরিত্র মৌলিকভাবে বদলে দেবে। মানবাধিকার সংগঠন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও জর্জিয়ান ড্রিমের পদক্ষেপের নিন্দা করেছে।
জর্জিয়ান ড্রিমের পাল্টা যুক্তি, তারা দেশকে এমন বিরোধী নেতাদের হাত থেকে রক্ষা করছে যারা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভয়াবহ যুদ্ধ বাধাতে চান। রাশিয়া ২০০৮ সালে জর্জিয়ার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে জিতেছিল। একসময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে তৈরি হওয়া দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গণতান্ত্রিক ও পশ্চিমমুখী বলে পরিচিত ছিল জর্জিয়া। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে দেশটি ক্রমে কর্তৃত্ববাদী হচ্ছে এবং মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছে।
জর্জিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে চায়, আর ইউনিয়নও এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ফলে এই মামলা শুধু দেশের ভেতরের রাজনীতি নয়, ব্রাসেলসের সঙ্গে তিবিলিসির সম্পর্কের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে এখন তাকিয়ে আছে জর্জিয়ার ভোটাররা, তাকিয়ে আছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। কারণ এই রায় দেশটির গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং ইউরোপের সঙ্গে তার সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স