ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রানঅফ ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে দুই প্রার্থীই একে অপরকে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে দুই শিবিরের পাল্টাপাল্টি আইনি লড়াই এখন নির্বাচনী লড়াইয়েরই অংশ হয়ে উঠেছে। আগামী রোববার, ২৫ অক্টোবর, দ্বিতীয় দফার ভোট হওয়ার কথা।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
ডানপন্থি প্রার্থী সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ নির্বাচনী আদালতে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রার্থিতা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। বোলসোনারোর অভিযোগ, লুলা শিবির অবৈধ প্রচার চালিয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকারি কর্মসূচি ও সুবিধার প্রচার করে হোয়াটসঅ্যাপে কোটি কোটি মানুষের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী প্রচারের মাঝখানে।
বোলসোনারো শিবিরের আবেদনে লুলাকে শুধু প্রার্থিতা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়নি। তাঁরা আরও চেয়েছেন, লুলা এবং যোগাযোগমন্ত্রী সিডোনিও পালমেইরাকে আট বছরের জন্য সরকারি পদে অযোগ্য ঘোষণা করা হোক। বোলসোনারো শিবিরের ভাষায়, সরকারি বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে।
অন্যদিকে লুলা শিবিরও পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার তাঁদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বুধবার তাঁরা বোলসোনারোকে অযোগ্য ঘোষণা করার আবেদন করবেন। তাঁদের অভিযোগের কেন্দ্রে আছে হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটা। লুলা শিবিরের দাবি, মেটার অ্যালগরিদম এমনভাবে কাজ করেছে যাতে লুলার প্রচারের ক্ষতি হয়েছে এবং বোলসোনারো সুবিধা পেয়েছেন। এই আবেদনটি আল জাজিরার প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়েনি, তবে লুলা শিবিরের একজন সূত্র সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই বিতর্কের পেছনে আছে আদালতের আগের একটি নির্দেশ। সোমবার আদালত মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রমাণ করতে বলেছিল যে সংস্থাটি দুই প্রার্থীর প্রতি সমান আচরণ করছে। না করলে দৈনিক জরিমানার হুমকিও ছিল। মঙ্গলবার মেটা জানায়, আদালতের সিদ্ধান্ত মানতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শেষ হয়েছে। এর আগে লুলা শিবির অভিযোগ করেছিল, মেটা তাঁদের অনলাইন কনটেন্টের বিস্তার কমিয়ে দিচ্ছে। মেটা বরাবরই পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও বোলসোনারো পেয়েছিলেন ৪৭ শতাংশ ভোট, আর লুলা পেয়েছিলেন ৪৫ শতাংশ। ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ছেলে। জনমত জরিপে এখনো দুজনের মধ্যে খুব কাছাকাছি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে। এমন পরিস্থিতিতে অযোগ্যতার আবেদনগুলো ভোটের আগের শেষ দিনগুলোতে উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।
সূত্র: আল জাজিরা