এক দশকের বেশি সময় পর নাইজেরিয়ায় প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চলমান প্রাদুর্ভাব এখন আফ্রিকার চতুর্থ দেশে পৌঁছাল, আর নাইজেরিয়াই এখন পর্যন্ত আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রাদুর্ভাবকে তাঁরা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখছেন।
ছবি: ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি
রোগী একজন উগান্ডার নারী। তিনি ৫ অক্টোবর আদ্দিস আবাবা হয়ে নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় পৌঁছান। নাইজেরিয়া সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের কর্মকর্তা ওডিয়ানোসেন এহিয়াখামেন জানিয়েছেন, দুই দিন পর তাঁর অসুস্থ বোধ হতে শুরু করে। ১১ অক্টোবর তিনি আবুজার একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান। তখন তাঁর লক্ষণগুলো ম্যালেরিয়ার মতো মনে হচ্ছিল, কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয়নি।
পরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানতে পারেন, ওই নারী সম্প্রতি উগান্ডায় গিয়েছিলেন। উগান্ডা চলমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত দেশগুলোর একটি। এরপর ১৯ অক্টোবর তাঁর ইবোলা পরীক্ষা করা হয় এবং মঙ্গলবার ফল পজিটিভ আসে। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ৪৪ জন সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে। তাঁদের বেশির ভাগই স্বাস্থ্যকর্মী। রোগীর স্বামী, যিনি একজন সুইস নাগরিক এবং আবুজায় তাঁর সঙ্গে থাকেন, তিনিও এই তালিকায় আছেন।
একই ফ্লাইটে যাওয়া যাত্রীদেরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা মনে করেন না যে ফ্লাইট চলাকালীন ওই নারীর শরীরে লক্ষণ ছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ আলি পাতে জানিয়েছেন, রোগী এখন আইসোলেশনে আছেন এবং চিকিৎসা পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের পশ্চিম আফ্রিকার বড় প্রাদুর্ভাবের সময় নাইজেরিয়া সফলভাবে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করেছিল। এবারও মোকাবিলার ব্যবস্থা আছে বলে তাঁর দাবি।
উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই নারী কঙ্গোতে গিয়েছিলেন। কঙ্গোতে আটটি প্রদেশে ৯ হাজার ৫০০ এর বেশি ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে কঙ্গোর ঠিক কোথায় তিনি ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। উগান্ডার মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, উগান্ডা হয়ে যাতায়াত করলেই সংক্রমণ সেখানে হয়েছে, এমনটা প্রমাণ হয় না। উগান্ডায় এখন সক্রিয় কোনো ইবোলা রোগী নেই বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। মে ও জুনে দেশটিতে ২০টি রোগী পাওয়া গিয়েছিল, যার বেশির ভাগই কঙ্গো থেকে আসা। আগস্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করে।
এই মাসের শুরুতে কেনিয়াতেও প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়। ওই রোগী কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে কেনিয়ায় এসেছিলেন। এরপর কেনিয়ায় একই রোগীর সঙ্গে সম্পর্কিত আরও আটজনসহ মোট নয়জন রোগী পাওয়া গেছে। কঙ্গোতে মে মাসে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এই প্রাদুর্ভাবে ৪ হাজার ৬৪৬ জন মারা গেছেন। এই ইবোলা প্রজাতিতে আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেক মারা যান বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এখনো এর অনুমোদিত কোনো চিকিৎসা বা টিকা নেই। ভুল তথ্য ও তহবিলের ঘাটতি আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মহাপরিচালক জঁ কাসেয়া বলেছেন, ইবোলা এখন আফ্রিকার তিনটি অঞ্চলে ছড়িয়েছে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের জরুরি পদক্ষেপ দরকার।
সূত্র: রয়টার্স