ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
জাতীয় স্বাস্থ্য

হামের প্রাদুর্ভাবে আরও এক শিশুর মৃত্যু, এ বছর প্রাণহানি বেড়ে ১,২০৫

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব থামার কোনো লক্ষণ নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামজাতীয় উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হামে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ২০৫ জনে।

হামের প্রাদুর্ভাবে আরও এক শিশুর মৃত্যু, এ বছর প্রাণহানি বেড়ে ১,২০৫

ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

এই মৃত্যুর পর সন্দেহভাজন হামে প্রাণ হারানো মানুষের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ১০১ জনে। আর ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে মৃত্যুর সংখ্যা আগের মতোই ১০৪ জনে আটকে আছে।

২৪ ঘণ্টায় ৯৯৭ সন্দেহভাজন, ১৩ জনের হাম নিশ্চিত

বুলেটিনের তথ্য বলছে, ওই একই ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৯৯৭ জন। ফলে সারাদেশে সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫ জনে পৌঁছেছে। এ সময়ে ১৩ জনের হাম ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, তাতে নিশ্চিত রোগী দাঁড়াল ২৩ হাজার ২১২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৩৪ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এখন ১ লাখ ৯২ হাজার ৬৯৫ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮৫ হাজার ১১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

কেন থামছে না সংক্রমণ

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের বছরগুলোর টিকাদানে ঘাটতিই এই প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ। এপ্রিলে ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ পুনরায় শুরু করে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালানো হলেও সংক্রমণের গতির কাছে তা পেরে উঠছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, সংক্রমণের এই গতিতে মহামারি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুস্তাক হুসাইনের মতে, টিকা নেওয়ার পর শিশুদের শরীরে যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠতে সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। তাই সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর এই ধারা আরও অন্তত এক মাস চলতে পারে বলে তার ধারণা।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সন্দেহভাজন রোগী সবচেয়ে বেশি, ৪১২ জন। এরপর চট্টগ্রামে ১৯৩, সিলেটে ১৩২, বরিশালে ৯৭, খুলনায় ৬৬, ময়মনসিংহে ৫৯, রাজশাহীতে ২২ ও রংপুরে ১৬ জন। ১৫ মার্চের পর সবচেয়ে বেশি সন্দেহভাজনও ঢাকা বিভাগে, মোট ৯০ হাজার ৪৯৩ জন। সর্বশেষ মৃত্যুর খবরটি এসেছে সিলেট বিভাগ থেকে।