সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড আর যন্ত্রাংশ নষ্ট করলে পাঁচ বছরের জেল। এমন কঠোর শাস্তির বিধান রেখে 'বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬' জারি করেছে সরকার।
ছবি: টিবিএস
সোমবার রাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। এর ঠিক আগের দিন, রোববার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
কেন এই অধ্যাদেশ
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ বাংলাদেশের জন্য আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন তা আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
"চলমান বৈশ্বিক সংঘাত ও যুদ্ধের প্রভাব দেখিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ বা সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ কতটা নাজুক অবস্থায় পড়তে পারে। এ কারণেই সরকার সৌরবিদ্যুতের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে," বলেন তিনি।
কী আছে অধ্যাদেশে
সৌরবিদ্যুৎ বা এর যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে। আর যন্ত্রাংশ বা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা বিনষ্ট করলে শাস্তি আরও ভারী। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। চুরি করা সৌর সরঞ্জাম কেনাবেচা বা নিজের হেফাজতে রাখলেও চুরির সমান শাস্তি পেতে হবে।
অনুমোদন ছাড়া অবৈধ সংযোগ দেওয়া, অথবা প্রকল্প স্থাপন, পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে বাধা দিলেও তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এসব অপরাধের বিচার হবে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। মোবাইল কোর্টও তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতে পারবে।
কোথায় বসবে সৌরপ্যানেল
সরকারি ভবন, আবাসিক ভবনের ছাদ, প্রাঙ্গণ, ভবনসংলগ্ন অনাবাদি জমি ও জলাশয়ে সর্বোচ্চ ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে। সৌরচালিত সেচপাম্প, কোল্ড স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানের চার্জিং স্টেশন, চা বাগান, ভাসমান সৌরপ্রকল্প এবং কৃষিজমিতে কৃষিকাজের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের 'এগ্রিভোল্টাইক' ব্যবস্থাও এর আওতায় থাকবে। তবে বড় পরিসরের ভূমিভিত্তিক মেগা সৌরপ্রকল্প এই অধ্যাদেশের বাইরে থাকছে।
বিনিয়োগের জন্য দুটি মডেল রাখা হয়েছে। ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগকারী নিজ খরচে প্যানেল বসাবে। আর ক্যাপেক্স মডেলে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান নিজ অর্থায়নে প্রকল্প করবে এবং মালিকানা তারই থাকবে। গ্রাহক, সেবাদানকারী ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নেট-মিটারিং গ্রাহকরা নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে পারবেন। সেই বিদ্যুতের দাম মাসিক বিলের সঙ্গে সমন্বয় হবে, আর সরকার নির্ধারিত মূল্যে নগদ অর্থও পাওয়া যাবে।