কাজ প্রায় শেষ। ভৌত অগ্রগতি ৯৪ শতাংশের কাছাকাছি। শত শত সড়ক আর সেতুর কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন। এমন একটি প্রকল্পের খরচ এক লাফে ৪,০০০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব উঠেছে। পেছনের চালিকা শক্তি হিসেবে নাম আসছে সংসদ সদস্যদের।
ছবি: আমার দেশ
এলজিইডির 'অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩' বা আইআরআইডিপি-৩ এর তৃতীয় সংশোধনী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সাম্প্রতিক সভায় এই বিপুল ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের ভাষায়, শেষ পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
৬,৪৭৬ কোটি থেকে ১০,৫২৬ কোটি
২০২০ সালের জুনে প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬,৪৭৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনে তা সামান্য বাড়িয়ে করা হয় ৬,৫২৬ কোটি ৫৫ লাখ। দ্বিতীয় সংশোধনে ব্যয় একই রেখে মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয় জুন ২০২৭ পর্যন্ত। এবার তৃতীয় সংশোধনে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১০,৫২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ বাড়ছে ৪,০৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা মূল ডিপিপির চেয়ে ৬৩ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে মেয়াদ ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
কেন এই তোড়জোড়
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, সংসদ সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতেই প্রকল্পের কাজ বাছাই হবে। দীর্ঘদিন সংসদীয় আসনগুলোতে নতুন কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের পর এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ দেখাতে পারছেন না অনেক এমপি। নতুন প্রকল্প অনুমোদনে দু-তিন বছর লেগে যাবে বলে পুরোনো প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বাড়িয়ে দ্রুত কাজ বাগিয়ে নিতে চাইছেন তারা। তৃতীয় সংশোধনীতে নতুন করে ৪৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ২১১ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ২,৪৯৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ও ১,০১০ মিটার সেতু-কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
সবচেয়ে বড় আপত্তি আইএমইডির
সবচেয়ে জোরালো আপত্তি এসেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) থেকে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। মোট ৭,২৯১টি স্কিমের মধ্যে ৬,৩৪৪টির কাজ শেষ। আইএমইডির মতে, মেয়াদ বাড়ানো হলে শুরুর দিকের সড়কগুলোর কাজের গুণগত মান সঠিকভাবে যাচাই করা যাবে না। আর নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি প্রকল্পের মেয়াদ সাধারণত তিন বছরের বেশি হওয়ার কথা নয়।
সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ এ প্রস্তাবকে 'সম্পূর্ণ অযৌক্তিক' বলেছেন। তার ভাষায়, ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ হওয়া একটি প্রকল্পে সাত বছর পর এসে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া সুযোগের অপব্যবহার। এমপিদের চাপ থাকলে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্ব বলেও মনে করেন তিনি।
তবে পিইসি সভার সভাপতি মাহমুদুল হোসাইন খানের দাবি, নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে বাস্তবায়ন শুরু করতে প্রায় এক বছরের বেশি সময় লেগে যায়। জনপ্রতিনিধিরা এলাকার মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে প্রস্তাব দিয়েছেন। কাজগুলো উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।