ছবি: ডোস্ট-পাগাসা
২০২৬ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হিসেবে তাইওয়ান ও চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন চাম্পি। বুধবার সকাল আটটায় ঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২৪৫ কিলোমিটার। ঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার বেগে উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে তাইওয়ানের পূর্ব দিকের সমুদ্রের দিকে যাচ্ছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস বলছে, শনিবারের দিকে শক্তিশালী টাইফুন হিসেবে তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে চাম্পি। এরপর দ্বীপটি পেরিয়ে কিছুটা দুর্বল হয়ে প্রবল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় বা টাইফুন হিসেবে ফুজিয়ান প্রদেশে দ্বিতীয়বার আঘাত হানতে পারে। তবে আরেকটি সম্ভাবনাও আছে: তাইওয়ানের উত্তরপূর্ব দিকের সমুদ্রে উত্তরপূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাওয়া। পথ নিয়ে এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই পাশের কর্তৃপক্ষ।
চীনের চেচিয়াং প্রদেশ বুধবার সকাল আটটা থেকে টাইফুন জরুরি সাড়া চালু করেছে। বয়স্ক, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীদের মতো ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ৩৬টি যাত্রীবাহী ফেরি রুট স্থগিত করা হয়েছে এবং ২২৩টি সামুদ্রিক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপকূলের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করা হচ্ছে, আর মাছের খামার ও সাগরের নির্মাণস্থল থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ফুজিয়ানে সব মাছ ধরার নৌকাকে বুধবারের মধ্যে কাছের বন্দরে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে, আর নাবিকদের বৃহস্পতিবারের মধ্যে তীরে ফিরতে হবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে স্কুল, ব্যবসা, কর্মস্থল, দলগত বাইরের কার্যক্রম ও গণপরিবহন বন্ধের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। সাংহাইসহ চেচিয়াং ও ফুজিয়ানের উপকূলজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিমান চলাচলেও বিঘ্নের আশঙ্কা আছে। এভিয়েশন তথ্য প্ল্যাটফর্ম ভ্যারিফ্লাইটের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েনচৌ, ফুচৌ, নিংবো, হাংচৌ, সাংহাইয়ের দুটি বিমানবন্দর ও সিয়ামেনের বিমানবন্দর ঝড়ের পথে পড়তে পারে। তবে বুধবার পর্যন্ত বড় আকারে ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের ঘোষণা আসেনি। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, বুধবার রাতে বা বৃহস্পতিবার ভোরে সমুদ্র সতর্কতা জারি হতে পারে, আর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে শুক্র ও শনিবার। চীনের জাতীয় পূর্বাভাসে চার স্তরের সতর্কতার মধ্যে সবচেয়ে নিচের নীল সতর্কতা বহাল আছে, তবে বাসিন্দাদের বাইরের কাঠামো শক্ত করে বাঁধতে এবং পাহাড়ি ও নদী উপত্যকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট