ত্রিদেশীয় সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে আফগানিস্তানের কাছে পাত্তাই পেল না বাংলাদেশ। শারজাহতে সিরিজের শেষ লিগ ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরে ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেল টাইগাররা। ফাইনালে উঠতে আফগানিস্তানকে অন্তত ৪১ রানে হারাতে হতো বাংলাদেশকে। ৮৭ বল হাতে রেখে জয় তুলে শুক্রবারের ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে আফগানরা।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দ্বিতীয় ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান (১)। পরের বলেই স্টাম্পে বল ঠেলে গোল্ডেন ডাকে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। সপ্তম ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের জোড়া আঘাতে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত (১৫) ও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় (০)। মাত্র ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। পঞ্চম উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন দুজনে। ইমন ৯৬ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় করেন সর্বোচ্চ ৭০ রান। সাইফের ব্যাট থেকে আসে ৮২ বলে ৪১ রান। তবে এই দুজন ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। রশিদ খানের ঘূর্ণিতে শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। রশিদ ৩১ রানে নেন চার উইকেট, আহমদজাই ও ওমরজাই নেন দুটি করে।
১৬১ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতে চাপে পড়েছিল আফগানিস্তানও। তাসকিন আহমেদের জোড়া আঘাতে ৩৯ রানে দুই ওপেনারকে হারায় তারা। কিন্তু অধিনায়ক রহমত শাহর অপরাজিত ৬৭ ও হাশমতউল্লাহ শাহিদির অপরাজিত ৩৬ রানে ভর করে ৩৫.৩ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে আফগানরা। ইব্রাহিম জাদরান করেন ৩৪ রান।
এই জয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা পঞ্চম ওয়ানডে জিতল আফগানিস্তান। বল হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ায় ম্যাচসেরা হয়েছেন রশিদ খান। টানা দুই হারে শূন্য হাতে সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় হতাশ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হৃদয় ম্যাচ শেষে বলেন, দল প্রয়োজনের চেয়ে অন্তত ১০০ রান কম করেছে।
সূত্র: ইএসপিএনক্রিকইনফো