ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
সেপ্টেম্বরে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার, আর এর জেরে দেশের মোট সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৩ ট্রিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরে ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪ দশমিক ৫২ বিলিয়ন পাউন্ড। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ২৩ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন পাউন্ডের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ঋণের সুদ বাবদ খরচ বেড়ে যাওয়ায় ঘাটতি বেড়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ড কম। তবে উপসাগরীয় সংঘাত শুরুর আগে বাজেট দায়িত্ব কার্যালয় যে ৯১ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ডের পূর্বাভাস দিয়েছিল, তার চেয়ে এটি বেশি। অর্থাৎ আর্থিক চাপ কমেনি, বরং পূর্বাভাসের চেয়ে ঘাটতি বড় হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৮ অক্টোবর প্রথম বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী জন হিলি। নিজের নির্ধারিত আর্থিক নিয়মের মধ্যে থাকতে তাঁকে ব্যাংকের ওপর কর বাড়ানোসহ নানা পদক্ষেপ নিতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী দৈনন্দিন খরচ করের টাকায় মেটাতে হবে এবং অর্থনীতির অনুপাতে ঋণ কমাতে হবে।
চ্যালেঞ্জটা শুধু সংখ্যার নয়। উপসাগরীয় সংঘাত শুরুর পর বিশ্বজুড়ে সরকারি ঋণের সুদের হার বেড়েছে, ফলে হিলির হাতে ভুল করার সুযোগ কমে এসেছে। বাজারে আস্থা ধরে রাখতে তাঁকে দেখাতে হবে যে বাজেটের বাড়তি খরচের পুরো জোগান আছে, কোনো বাড়তি ঋণ ছাড়াই। আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাঁর বাজেট ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পুরোপুরি অর্থায়িত থাকবে।
তবে স্বস্তির একটা দিকও আছে। জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় জানিয়েছে, ঋণের মোট অঙ্ক রেকর্ড ছুঁলেও অর্থনীতির অনুপাতে ঋণ গত বছরের চেয়ে কমেছে। অর্থাৎ ঋণের বোঝা বেড়েছে, কিন্তু অর্থনীতির আকারের তুলনায় তা আগের বছরের মতো ভারী নয়। এক ডলারের দর ধরা হয়েছে শূন্য দশমিক ৭৪৮১ পাউন্ড, সেই হিসাবে ৩ ট্রিলিয়ন পাউন্ড প্রায় ৪ দশমিক ০১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমান।
সূত্র: রয়টার্স