আবার কড়া নিরাপত্তায় রূপপুর পৌঁছাল পারমাণবিক জ্বালানি। বুধবার সকাল দশটার একটু পরেই ইউরেনিয়ামবাহী কনভয় ঢুকে পড়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চত্বরে। পুরো পথে কনভয়ের তত্ত্বাবধানে ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
কনভয়টি ভোর পাঁচটার দিকে রওনা দেয় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে। সঙ্গে ছিল পুলিশ, এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও। রুটের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমানটি মঙ্গলবার রাতেই শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। চালানটি গ্রহণ করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রহমান জানান, সকাল দশটার কিছু পরে কনভয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চত্বরে প্রবেশ করে।
দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য এবারের চালান
চলতি বছর এ নিয়ে তৃতীয় দফা ইউরেনিয়াম চালান পেল রূপপুর। এর আগে প্রথম দুটি চালান এসেছিল ৩ ও ১১ অক্টোবর, দুটোই প্রথম ইউনিটের জন্য। এবারের চালানটি নির্ধারিত রয়েছে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য।
প্রকল্প কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মোট নয়টি ইউরেনিয়াম চালান আনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি দ্বিতীয় ইউনিটের, বাকি দুটি প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য। ডিসেম্বরের মধ্যেই সব চালান পৌঁছে যাওয়ার কথা। ২০২৩ সালেই দেশে এসেছিল প্রথম ইউনিটের জ্বালানি।
এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নিয়ে গঠিত রূপপুর কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। রাশিয়ার সহযোগিতায় ২০১৩ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।
এদিকে রিঅ্যাক্টর সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় ১৬ মেগাওয়াট হাই-প্রেশার সিস্টেমের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ একটি ভালভ বদলে দেওয়ার পরই এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহিদুল হাসান।