লিবিয়ার দুটি বন্দিশিবির থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন ১৭৫ জন বাংলাদেশি। বুধবার ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপোলির তাজুরা বন্দিশিবিরে আটক ছিলেন। বাকি ৬২ জন ছিলেন বেনগাজির গানফৌদা বন্দিশিবিরে। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ উদ্যোগে তাদের দেশে ফেরানো হয়।
এদের প্রায় সবাই মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় যারা ঘর ছেড়েছিলেন, তাদের অনেককেই পথে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় লিবিয়ায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেড়েছে। পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেকে সর্বস্ব হারিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও থামছে না অবৈধ এই যাত্রা।
বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা ও সহায়তা
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে লিবিয়ার বন্দিশিবির থেকে দফায় দফায় বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রতিবারই ফেরত আসা ব্যক্তিদের মুখে শোনা গেছে প্রায় একই গল্প: ইউরোপের স্বপ্ন দেখিয়ে পাচারকারীরা তাদের ঠেলে দিয়েছে বিপদের মুখে।
বিমানবন্দরে ফেরত আসা ব্যক্তিদের স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে এই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা অন্যদের জানানোর অনুরোধ করা হয়। কর্মকর্তাদের আশা, এতে অবৈধ অভিবাসনের ভয়াবহতা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়বে।
আইওএমের পক্ষ থেকে প্রত্যেক ফেরত আসা ব্যক্তিকে যাতায়াত ভাতা, খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশিবিরে এখনো আটক অন্য বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে দূতাবাস, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও আইওএম একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।