ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
মতামত

সন্দেহ ভালো, তবে রায় নয়: যাচাই ছাড়া 'ভুয়া' বলার অভ্যাস ছাড়ুন

গতকাল একটা খবরে চোখ আটকে গিয়েছিল অনেকেরই, ইলন মাস্ক নাকি আগামী বছর আমেরিকার প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার উপহার দেবেন। শুনেই মনে হয়েছিল, এটা হতে পারে না। এত বড় দান? এত সহজে? কেউ কেউ সরাসরি বলেও ফেললেন, এটা ভুয়া খবর।

সন্দেহ ভালো, তবে রায় নয়: যাচাই ছাড়া 'ভুয়া' বলার অভ্যাস ছাড়ুন

ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, খবরটা সত্যি। স্পেসএক্স গত জুনে শেয়ারবাজারে এসেছে, মাস্ক নিজে এক্সে পোস্ট দিয়েছেন এই ঘোষণা। সিএনএন, রয়টার্স, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সবাই লিখেছে। যারা 'ভুয়া' বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাদের সন্দেহটা ছিল স্বাভাবিক, কিন্তু সিদ্ধান্তটা ছিল তাড়াহুড়ো।

এটাই আজকের সবচেয়ে বড় সমস্যা। সন্দেহ করা ভালো, সন্দেহ করা দরকার। কিন্তু সন্দেহ আর রায় এক জিনিস নয়। আমরা এখন এমন এক যুগে বাস করি যেখানে প্রতিদিন শত শত খবর আসে, আর তার বড় অংশই সাজানো, অর্ধসত্য বা পুরো মিথ্যা। ফলে আমাদের মস্তিষ্ক একটা সহজ পথ বেছে নিয়েছে, যা অবিশ্বাস্য লাগে, তা-ই ভুয়া।

দুটো ভুলই সমান বিপজ্জনক

মজার ব্যাপার হলো, এই প্রবণতার উল্টোটাও সমান ক্ষতিকর। কেউ কেউ আবার যা-ই শোনেন, তা-ই বিশ্বাস করেন, বিশেষ করে যদি সেটা তাদের মনের কথা বলে। ফলে একদিকে 'সবই ভুয়া', অন্যদিকে 'সবই সত্যি', দুই চরমের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে আসল কাজটা: যাচাই।

যাচাই মানে এই নয় যে প্রতিটা খবরের পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খরচ করতে হবে। মাত্র তিনটে প্রশ্নই অনেক দূর নিয়ে যায়। এক, খবরটা কে দিচ্ছে? নামকরা সংবাদমাধ্যম, নাকি অজ্ঞাত ফেসবুক পেজ? দুই, মূল উৎস কী? মাস্কের ক্ষেত্রে মূল উৎস ছিল তার নিজের পোস্ট, সেটা দেখলেই সন্দেহ মিটে যায়। তিন, অন্যরাও কি লিখছে? একটা বড় খবর যদি শুধু একটা সাইটে থাকে, সাবধান হওয়াই ভালো।

সন্দেহ হোক হাতিয়ার, অস্ত্র নয়

সন্দেহ আসলে সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ভালো সাংবাদিক সব খবরকেই প্রথমে সন্দেহ করেন, তারপর প্রমাণ খোঁজেন। সমস্যা হয় যখন সন্দেহটাই শেষ কথা হয়ে যায়, প্রমাণ খোঁজার ধৈর্য থাকে না।

মাস্কের শেয়ার-উপহারের খবরটা আমাদের একটা মূল্যবান শিক্ষা দিল: পৃথিবী এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে 'অবিশ্বাস্য' ঘটনাও ঘটে। প্রযুক্তি-ধনকুবেরদের দানের অঙ্ক, রাজনীতির নাটকীয় মোড়, যুদ্ধের অপ্রত্যাশিত বাঁক, কোনোটাই আর আগের মতো 'অসম্ভব' নয়।

তাই পরেরবার কোনো খবর অবিশ্বাস্য লাগলে এক মিনিট থামুন। 'ভুয়া' বলে উড়িয়ে দেওয়ার আগে মূল উৎসটা একবার দেখে নিন। হয়তো দেখবেন, সত্যিটা আপনার সন্দেহের চেয়েও চমকপ্রদ।