ফ্রান্সে নতুন বিক্ষোভের আশঙ্কায় প্যারিস পুলিশ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বড় একটি অংশে সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এর আওতায় পড়েছে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসে প্রাসাদ, বাস্তিল স্কয়ার, সংসদের দুই কক্ষের এলাকা, লুভর জাদুঘর ও শঁজেলিজে অ্যাভিনিউ। পুলিশ বলেছে, নতুন বিক্ষোভ ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ছবি: এএফপি
এই অস্থিরতার শুরু সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি, স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দিয়ে। তাঁদের দাবি ছিল ভিড় কমানো, শিক্ষক সংকট দূর করা ও স্কুল ভবন ভালো করা। পরে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও সরকারি সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ যোগ হয়। গত শনিবার, ১৭ অক্টোবর, সারা ফ্রান্সে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন বলে জানিয়েছে সিএনএ। সেদিন অনেক জায়গায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষ হয়। লিমোজ শহরে ঐতিহাসিক টাউন হল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সহিংসতার মাত্রা এতটাই ছিল যে সরকার স্বীকার করেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ বলেন, কিছু শহরে কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিল না। তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ তা গ্রহণ করেননি। মাখোঁ রোববার এক ভাষণে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে লুটপাট ও সহিংসতায় জড়িতদের পার্থক্য টেনেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগ শুনবে, তবে সহিংসতার জন্য দায়ীদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
গ্রেপ্তারের সংখ্যাও বড়। বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্দার্ম আহত হয়েছেন। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, প্রায় তিন হাজার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, আগামী শনিবার, ২৪ অক্টোবর, নতুন বিক্ষোভের জন্য পুলিশ মোতায়েন হবে ব্যাপক। তিনি অতি বামপন্থী কিছু গোষ্ঠীকে সহিংসতার পেছনে একটি বিদ্রোহের পরিকল্পনা থাকার অভিযোগ করেছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বামপন্থী নেতারা প্রমাণ চেয়েছেন।
বিদেশি নেতাদের মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, অভিবাসী, জিহাদি ও কমিউনিস্টরা ফ্রান্স দখল করে লুটপাট ও আগুন দিয়েছে। বুধবার কাতার সফরে মাখোঁ এর জবাব দেন। তিনি বলেন, কিছু নেতা ফ্রান্সের খরচে প্রচার চালাচ্ছেন এবং এ ধরনের মন্তব্য যতটা অগ্রহণযোগ্য, ততটাই নির্বোধ। অভিবাসী দখলের দাবিকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেছেন। এমন কিছু কৃত্রিম ছবি ছড়ানো হয়েছে, যেসব ঘটনা ঘটেইনি বলেও তিনি জানান। কট্টর ডানপন্থী নেতা মারিন ল্য পেন অবশ্য মাখোঁর ব্যাখ্যাকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এর মধ্যেই সোমবার ও মঙ্গলবার রাতে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছিল। প্যারিসে রিপাবলিক স্কয়ার ও লে আল এলাকায় রাত ১১টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ ছিল। লিল ও নিসে নাবালকদের জন্য কারফিউ দেওয়া হয়। শ্রমিক সংগঠনগুলো ৫ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ফ্রান্সের সরকার বলছে, শনিবারের আগে শৃঙ্খলা ফেরানোই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
সূত্র: ডয়চে ভেলে