যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ফ্লোরিডার টাম্পায় লেবানন ও ইসরায়েলের সামরিক প্রতিনিধিদের বৈঠক শুরু হয়েছে। তিন মাসের বিরতির পর এই প্রথম দুই পক্ষ মুখোমুখি বসল।
ছবি: রয়টার্স
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সদর দপ্তর ম্যাকডিল বিমানঘাঁটিতে মঙ্গলবার এই বৈঠক হয় বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দুটি সূত্র জেরুসালেম পোস্টকে নিশ্চিত করেছে। বৈঠকের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া জুনের কাঠামো চুক্তির বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া।
আলোচনায় দক্ষিণ লেবাননের "পাইলট এলাকা" নিয়েও কথা হচ্ছে, যেখান থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। লেবাননের সংবাদমাধ্যম বেইরুট ওয়্যারের খবরে বলা হয়, বৈঠক বুধবার পর্যন্ত চলতে পারে। প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়, এটি শান্তি আলোচনা নয়; এজেন্ডা নিরাপত্তাকেন্দ্রিক, স্বাভাবিকীকরণ নয়।
লেবাননের দাবি
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সোমবার বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, লেবাননের দাবির মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান বন্ধ করা এবং দেশটি থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।
ফ্লোরিডা বৈঠকের আগে ওয়াশিংটন ও রোমে দুই পক্ষের মধ্যে আগের দফার আলোচনা হয়েছিল।
বৈঠকের আগেই লেবানন জানিয়ে দিয়েছিল, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সামরিক সমন্বয়ে তারা রাজি নয়। দ্য ন্যাশনালকে আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একজন লেবাননি কর্মকর্তা বলেছিলেন, "আমরা সবসময় তাদের বলি, না, আমরা এটা করব না।" তার ভাষায়, যাচাই-বাছাইয়ে তৃতীয় পক্ষ থাকতেই হবে।
ইসরায়েল অবশ্য হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে ধরে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত ১৮ অক্টোবর বলেছিলেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে থাকবে। এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
জুলাইয়ে প্রথম পাইলট জোন ঘোষণার পর থেকে অগ্রগতি থমকে আছে। কোনো পক্ষের সম্মতি যাচাইয়ের সম্মত কোনো কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। সমালোচকদের ভাষায়, প্রাথমিক জোনগুলোতে শুরু থেকেই ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি ছিল না, ফলে পরীক্ষাটি অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। তিন মাসের বিরতির পর টাম্পার এই বৈঠককে জুনের চুক্তি বাঁচানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: জেরুসালেম পোস্ট