ছবি: সংগৃহীত
টানা তিন বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় ২৬টি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চূড়ান্ত তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই তাগিদপত্র পাঠানো হয়। তাগিদপত্রে বলা হয়েছে, পাঠদান অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী পরপর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করলে অনুমোদিত শিক্ষাক্রম বাতিলের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া অবকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রমের অনুমোদন বাতিল করা যেতে পারে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এর আগে দুই দফায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এখনো কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেয়নি। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়নি, তাদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান অনুমোদন চূড়ান্তভাবে বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নোটিশ তালিকায় ১৯ অক্টোবর তারিখে দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি দেখা গেছে। একটি ডিপ্লোমা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর এবং অপরটি এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যায়, চূড়ান্ত তাগিদপত্র শুধু একটি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, ডিপ্লোমা ও বিএমটি দুই ধরনের শিক্ষাক্রমই এর আওতায় এসেছে।
প্রসঙ্গত, বোর্ড এখনই কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করেনি। সাত কর্মদিবসের মধ্যে পাওয়া জবাবের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারবে, তাদের অনুমোদন বহাল থাকবে।