রেকর্ড গরমের গ্রীষ্মের পর ব্রিটেন প্রথমবারের মতো সামরিক হেলিকপ্টার ও বিমান দিয়ে দাবানল মোকাবিলা করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা দাবানলের ঝুঁকি ঠেকাতে সরকার এই নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের চিনুক হেলিকপ্টার ও এ৪০০এম পরিবহন বিমানকে দাবানল নেভানোর সক্ষমতা দিয়ে সজ্জিত করা হবে। এসব সামরিক বিমান দুর্গম এলাকায় আগুন নেভাতে জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে সহায়তা করবে, যেখানে স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন।
দমকলকর্মীদের জন্য সরকার সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড দেবে, যা দিয়ে বিশেষায়িত সাড়াদানকারী দল গঠন ও অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম কেনা হবে। এই অর্থের একটি অংশ দাবানলের মতো চরম গরমের পরিস্থিতিতে কাজের উপযোগী হালকা ও নিরাপদ পোশাকসহ বিশেষ সরঞ্জামের জন্য ব্যয় হবে।
প্রতিরোধের দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। পিটল্যান্ড পুনরুদ্ধার ও দাবানলের ঝুঁকি কমাতে কৃষকদের সহায়তার জন্য আরও ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করা হবে। শুকিয়ে যাওয়া পিটল্যান্ডে পানি ফিরিয়ে আনা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দাহ্য গাছপালা পরিষ্কার করার মতো কাজে এই সহায়তা ব্যবহার করা যাবে।
দাবানল আগে থেকে শনাক্ত ও অনুসরণ করতে একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইউনিট গঠন করা হবে। ব্রিটেনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেট অফিসের সঙ্গে কাজ করে দাবানলের পূর্বাভাস ও ঝুঁকি মূল্যায়ন আরও উন্নত করার পরিকল্পনাও সরকারের আছে। এর ফলে আগুন লাগার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বছরের গ্রীষ্ম ছিল রেকর্ড গরমের, আর সেই গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থা শুধু আগুন নেভানোর জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের গ্রীষ্মে আগুনের ক্ষতি কমানো এবং দুর্গম মুর ও পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষ ও প্রকৃতিকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যও নেওয়া হচ্ছে।
এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে আকাশপথ থেকে আগুন নেভানোর সহায়তা পাওয়া যাবে, যা মাটিতে থাকা দলগুলোর পক্ষে একা করা কঠিন। দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছাতে পারলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে।
সূত্র: রয়টার্স