প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিকের বহুল প্রত্যাশিত শেয়ার বাজারে আসার আগেই বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায়ের দৌড়ে নেমেছে ওপেনএআই। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন বলছে, অস্বাভাবিক দ্রুতগতির এই তহবিল সংগ্রহে চ্যাটজিপিটি নির্মাতার মূল্যায়ন দাঁড়াতে পারে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।
ছবি: ডেইলি ওয়াদা
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিক নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শেয়ার বাজারে আসতে পারে—তার আগেই অর্থ সংগ্রহ ত্বরান্বিত করতে চায় ওপেনএআই। দুই প্রতিষ্ঠানই একই ধরনের বিনিয়োগকারীদের কাছে টাকা চাইছে, তাই কে আগে বিনিয়োগকারীদের রাজি করাতে পারে, সেই প্রতিযোগিতাই মূল কারণ।
আলোচনায় থাকা তিন হাজার কোটি ডলারের এই রাউন্ডে সফটব্যাংক গ্রুপ, আবুধাবিভিত্তিক এমজিএক্স ও ওপেনএআইয়ের অন্যান্য পুরোনো সমর্থকেরা যোগ দেওয়ার কথা ভাবছে। নতুন মডেল আনার পর রাজস্ব বাড়তে থাকায় এই মুহূর্তটিকেই পুঁজি করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।
কেন এত তাড়াহুড়ো
সূত্রগুলো বলছে, শেয়ার বাজারের অবস্থা খারাপ হলে ২০২৭ সালে পরিকল্পিত তালিকাভুক্তি আরও পিছিয়ে যেতে পারে। তাই বিপুল অবকাঠামো-প্রতিশ্রুতির অর্থায়ন ও ব্যালান্স শিট মজবুত করতে এখনই মূলধন দরকার ওপেনএআইয়ের। একই সপ্তাহে অ্যানথ্রপিক যখন নিজস্ব বিনিয়োগকারী দিবস পালন করছিল, ওপেনএআই তখন দীর্ঘমেয়াদি তহবিল ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে।
তবে বিনিয়োগকারীদের চ্যালেঞ্জও কম নয়। মাত্র কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি জটিল ও প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানে কীভাবে মূলধন বরাদ্দ করা হবে—সেই হিসাব নিকাশ করতে হচ্ছে তাদের। কিছু বিনিয়োগকারী মনে করেন, ওপেনএআইয়ের এই চাপ আসলে এমন তহবিল আগেই নিজের ঝুলিতে তোলার কৌশল, যেগুলো না হলে অ্যানথ্রপিকের আইপিওতে যেতে পারত।
দুই প্রতিষ্ঠানই এখন ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের লক্ষ্যে এগোচ্ছে। সেই সঙ্গে উদ্বেগ বাড়ছে—সুদহার বাড়ছে, প্রযুক্তি শেয়ারে বড় অস্থিরতা চলছে, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই প্রতিষ্ঠানের পুঁজি সংগ্রহের দৌড় পুরো প্রযুক্তি বাজারের নজর কেড়েছে।