মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে মাটি এনে পৃথিবীতে ফেরানোর স্বপ্নের অভিযানে নামল জাপান। মঙ্গলবার ভোরে তানেগাশিমা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে এইচ৩ রকেটে চেপে উড়ে গেল জাপানের মহাকাশ সংস্থা জাক্সার 'মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন' বা এমএমএক্স মহাকাশযান। লক্ষ্য—মঙ্গলের দুই রহস্যময় উপগ্রহের বড়টি, ফোবোসে নেমে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা।
ছবি: ডেইলি ওয়াদা
স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে উড্ডয়ন হয়। প্রায় ৭১ মিনিট পর মহাকাশযানটি রকেটের ওপরের অংশ থেকে আলাদা হয়ে নির্ধারিত কক্ষপথে প্রবেশ করে। মিশন কন্ট্রোল রুমে তখন করতালি আর অভিনন্দনের বন্যা।
পাঁচ বছরের এই মিশনে বিশ্বের পাঁচটি মহাকাশ সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। খরচ ৫৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। পাঁচ টন ওজনের মহাকাশযানটিতে আছে ১১টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র, একটি রোবটিক ল্যান্ডার আর একটি ছোট রোভার। ২০২৭ সালের আগস্টে মহাকাশযানটি মঙ্গল কক্ষপথে পৌঁছাবে। এরপর ফোবোসের চারপাশে কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে জরিপ চালিয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের পর দুটি জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।
কেন ফোবোস
ফোবোস আকারে মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া, আকৃতিতে আলুর মতো অনিয়মিত একটি পাথুরে বস্তু। মঙ্গলে এ পর্যন্ত নয়টি মহাকাশযান সফলভাবে অবতরণ করেছে, কিন্তু ফোবোস বা তার সঙ্গী ডিমোসে এখনো কোনো যান নামেনি। এই দুই উপগ্রহ আসলে কীভাবে তৈরি হলো—মঙ্গলের মাধ্যাকর্ষণে ধরা পড়া গ্রহাণু, নাকি গ্রহের সঙ্গে বিশাল সংঘর্ষে ছিটকে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে ফোবোসের মাটি।
জাক্সার লক্ষ্য কমপক্ষে ১০ গ্রাম মাটি ও পাথরকণা সংগ্রহ করা। একটি কোরিং ডিভাইস পৃষ্ঠের নিচ থেকে নমুনা তুলবে, আর নাসার সরবরাহ করা বায়ুসংকোচন যন্ত্র চাপযুক্ত গ্যাস ছেড়ে পৃষ্ঠের ধুলিকণা পাত্রে তুলবে। ২০৩১ সালে নমুনা পাত্রটি পৃথিবীতে ফিরবে।
জাক্সার বিজ্ঞানী মারি আইদা বলেন, "আমি এই দিনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তাই অবিশ্বাস্যভাবে খুশি। এখন সত্যিই স্বস্তি অনুভব করছি।" নাসার জ্যোতিঃপদার্থবিদ টম স্ট্যাটলার, যিনি এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত, বলেন, "অনেক অ্যাড্রেনালিন, অনেক উত্তেজনা, অনেক বিস্ময়।"
গ্রহাণু থেকে নমুনা ফেরানোর হায়াবুসা ও হায়াবুসা-২ মিশনের সাফল্যের পর মঙ্গল ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো নমুনা-ফেরানোর মিশন চালাচ্ছে জাপান। সফল হলে মানব ইতিহাসে এটিই হবে মঙ্গলব্যবস্থা থেকে আনা প্রথম নমুনা।