সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার জেরে ঢাকা থেকে ১২৬টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। নয় দিনে এতে আটকে গেছেন ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এএসএম ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ তথ্য বলছে, বাতিল ফ্লাইটের মধ্যে ৫৯টি সরাসরি এবং ৬৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়ার ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি। আটকে পড়া যাত্রীদের বড় অংশ সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী।
ট্রানজিট ফ্লাইটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে ভারতের ইন্ডিগো, বাতিল হয়েছে ২৪টি ফ্লাইট। এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাই ও এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি করে এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়।
ইউএস-বাংলা রিয়াদ রুটে ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল রেখেছে। বিমান এই রুটে ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। তবে দাম্মাম রুটে ২১ অক্টোবর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।
হুতি হামলায় রিয়াদ বিমানবন্দরে ২ বাংলাদেশি নিহত
১০ অক্টোবর থেকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী রিয়াদ ও দাম্মামের বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা শুরু করে। ওইদিন রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলাকে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি, আহত ২৭ জন।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলার হুমকি দিয়েছে। তাদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার প্রতিশোধেই এই হামলা চালানো হচ্ছে।
জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণকারীদের জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বেবিচক। কিন্তু যতক্ষণ রিয়াদ ও দাম্মামে অপারেশন স্বাভাবিক না হচ্ছে, ততক্ষণ এই অনিশ্চয়তা কাটবে না বলেই মনে হচ্ছে।