ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

স্কুলে হিজাব বিতর্কে আজারবাইজানে সড়কে শিশুরা

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: স্কুলে ইসলামি হিজাব পরা নিয়ে আজারবাইজানে বিতর্ক তীব্রতর হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাথার স্কার্ফ পরার ওপর বিধিনিষেধের প্রতিবাদে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে, যাতে শিশুদেরও অংশ নিতে দেখা গেছে।

স্কুলে হিজাব বিতর্কে আজারবাইজানে সড়কে শিশুরা

বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে আজারবাইজান ও তুরস্কের রাজনীতিবিদদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে—যে দুই দেশের নেতারা নিজেদের প্রায়ই "এক জাতি, দুই রাষ্ট্র" বলে বর্ণনা করেন। ধর্মীয় স্বাধীনতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আজারবাইজানে তুরস্ক ও ইরানের প্রভাব নিয়েও ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।

হিজাব পরা মেয়েশিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে; ছাত্ররাও সহপাঠীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে যোগ দিয়েছে। আজারবাইজানে প্রকাশ্য বিক্ষোভ বিরল—পুলিশ প্রায়ই বিক্ষোভ ভেঙে দেয়। তবে শিশুদের অংশগ্রহণ এবারের অস্থিরতাকে বিশেষভাবে অস্বাভাবিক করে তুলেছে।

সামাজিক মাধ্যমে বিক্ষোভের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ সময় দেশজুড়ে ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক ব্যবহারে বিঘ্নের খবরও পাওয়া গেছে; ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীগুলো এই বিধিনিষেধ নথিভুক্ত করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

আইনি পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা

বিতর্কের পেছনে রয়েছে একের পর এক আইনি পরিবর্তন। ৭ জুলাই আজারবাইজান সাধারণ শিক্ষা আইন সংশোধন করে, যাতে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার নীতি জোরদার করা হয় এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের পোশাকবিধি মেনে চলতে বলা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর সরকার প্রস্তাব ৩০৯ গ্রহণ করে স্কুল ইউনিফর্মের নিয়ম কঠোর করে। এই প্রস্তাবে মানক ইউনিফর্ম ব্যাহত করে বা ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন অতিরিক্ত পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়—তবে হিজাবের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। ৬ অক্টোবরের আরেকটি সিদ্ধান্তে শিক্ষকদের জন্য পোশাকের বিধান নির্ধারণ করা হয়; এরপর হিজাব পরা নারীদের শিক্ষকতা থেকে বিরত রাখার খবর আসে।

অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় ১২ অক্টোবর জানায়, বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। স্কুল কর্মীদের মুখোমুখি হওয়া, সম্পত্তির ক্ষতি ও স্কুল কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

হিজাব পরা মেয়েদের বহিষ্কারের নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য আটক যে কারো মুক্তির দাবি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। আজারবাইজান মূলত মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হলেও সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদে ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ধর্মনিরপেক্ষ রাখার বিধান রয়েছে।

এই বিতর্কে সমালোচনা এসেছে ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্ক থেকেও। ৩ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের উপদেষ্টা ওকতায় সারাল এই বিধিনিষেধের সমালোচনা করেন। জবাবে আজারবাইজানের ক্ষমতাসীন ইয়েনি আজারবাইজান পার্টি তুরস্ককে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে বলে।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদা, ডয়চে ভেলে