মাঝআকাশে দরজা খুলে যাওয়ার পর ভারতীয় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। রোববার দুপুরে এই ঘটনার পর বিমানে থাকা ৫৬ বছর বয়সী রোগী অঞ্জনা ভৌমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মৃত্যু বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
যা ঘটেছিল
বিচক্রাফট কিং এয়ার সি৯০এ মডেলের বিমানটি (রেজিস্ট্রেশন: ভিটি-এইচওয়াইএ) আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ভারতীয় সময় দুপুর ১টা ৫ মিনিটে এটি উড্ডয়ন করে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রায় ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার সময় কেবিনের চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেয়। এতে বিমানের মূল দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আংশিক খুলে যায়।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকায় পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানটির আসার আগেই জরুরি প্রস্তুতি নেয় — ফায়ার ও রেসকিউ গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসা কর্মীসহ সব জরুরি সেবা প্রস্তুত রাখা হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে।
সাত যাত্রী, একজন রোগী
বিমানটিতে দুই পাইলট, রোগী, একজন চিকিৎসক, একজন প্যারামেডিক ও রোগীর দুই স্বজনসহ মোট সাতজন ছিলেন। রোগী ছাড়া বাকি ছয়জন অক্ষত আছেন বলে জানা গেছে। অবতরণের পরপরই অঞ্জনা ভৌমিককে ঢাকার কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার জানান, রোববার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
মানবিক বিবেচনায় অবতরণের অনুমতি
আন্তর্জাতিক অবতরণের প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স না থাকলেও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে বলে জানিয়েছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. রিয়াজ উদ্দীন বলেন, ফ্লাইটের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই দরজাটি খুলে গিয়েছিল। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি পরিচালনা করছিল ভারতের এসকেবি ইনফ্রাকন প্রাইভেট লিমিটেড।
সূত্র: পিটিআই