কালীগঙ্গা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। নিখোঁজ রয়েছেন শিশুটির মা। সোমবার রাতে পিরোজপুরের নাজিরপুরে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই একটি ট্রলার ডুবে যায়।
ছবি: টাইমস অব বাংলাদেশ
দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত ৯টার দিকে, শ্রীরামকাঠি-ভারতকাঠি ফেরিঘাটের কাছে। ট্রলারটি নাজিরপুর দিক থেকে ছেড়ে কিছুদূর যাওয়ার পর একপাশে কাত হয়ে ডুবে যায়। নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সীমানা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম অর্পিতা বেপারী, বয়স ৮ বছর। আর নিখোঁজ মায়ের নাম রিনা বেপারী, বয়স ৩৫ বছর। তারা নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভারতকাঠি গ্রামের শঙ্কর বেপারীর মেয়ে ও স্ত্রী।
পূজার ছুটিতে ফিরে আর ফেরা হলো না
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজার ছুটিতে শঙ্কর বেপারী স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। শ্রীরামকাঠি এলাকায় পূজা দেখে ট্রলারে করে বাড়ি ফিরছিলেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রলারে পঞ্চাশের বেশি যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল ছিল। অতিরিক্ত বোঝা নিয়ে চলার সময় হঠাৎ ট্রলারটি কাত হয়ে যায়। পানিতে পড়ে যান যাত্রীরা।
অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন। স্থানীয়রাও অনেকে উদ্ধার করেন। কিন্তু রিনা ও তার মেয়ে অর্পিতা নিখোঁজ হয়ে যান।
দুই দফায় ডুবুরির তল্লাশি
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দুই দফা তল্লাশি চালিয়ে অর্পিতার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে মা রিনার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান নাজিরপুরের ইউএনও সাজিয়া শাহনাজ তোমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবীব ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান। উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেন পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক রাইহানুর আশরাফ ও নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর সোয়াইব হোসেন মুন্সি।
অন্ধকারে তল্লাশি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাতভর অভিযান স্থগিত রাখা হয়। ভোরে আবার শুরু হয় নিখোঁজ রিনার খোঁজে তল্লাশি।