ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: একদিকে বিশ্বের প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ—অর্থাৎ প্রতি ১৩ জনে একজন—অভুক্ত পেটে ঘুমাতে যায়, অন্যদিকে বিশ্বে উৎপাদিত খাবারের প্রতি পাঁচ প্লেটের এক প্লেট সোজা গিয়ে পড়ছে ডাস্টবিনে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) তথ্য বলছে, বছরে সারা বিশ্বে নষ্ট হওয়া খাবারের পরিমাণ ১০০ কোটি টনেরও বেশি, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার।
ছবি: দ্য ডেলটা লেন্স
জাতিসংঘের বার্ষিক ‘স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে গড়ে প্রত্যেক মানুষ বছরে প্রায় ১৩২ কেজি খাবার নষ্ট করে—যা মোটামুটি দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওজনের সমান। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ অপচয়ই হয় বাসাবাড়িতে।
সবচেয়ে বেশি অপচয় মালদ্বীপে
অপচয়ের এই তালিকায় সবচেয়ে বিস্ময়কর নাম মালদ্বীপ। পর্যটনের এই স্বর্গরাজ্যে মাথাপিছু বার্ষিক খাবার অপচয়ের পরিমাণ প্রায় ২৬০ কেজি—বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। এর পরই রয়েছে সিরিয়া, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র ও মেক্সিকো। অন্যদিকে স্পেন বছরে মাথাপিছু মাত্র ৩৯ কেজি খাবার নষ্ট করে উদাহরণ তৈরি করেছে।
পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব
এই বিপুল খাদ্য অপচয় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়েরও কারণ। ভাগাড়ে পচতে থাকা এসব খাবার থেকে নির্গত মিথেন গ্যাস বিশ্বে মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় ৮-১০ শতাংশের জন্য দায়ী।
হিসাব করে দেখা গেছে, বিশ্বে খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত মোট কৃষিজমির ২৮ শতাংশ—যা আয়তনে পুরো কানাডার চেয়েও বড়—চাষ হচ্ছে এমন খাবারের জন্য, যা শেষ পর্যন্ত কেউ খায় না। একদিকে আফ্রিকার মতো মহাদেশে যখন অপুষ্টি ও ক্ষুধার্ত মানুষের হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, তখন অন্যদিকে ডাস্টবিন ভরানোর এই প্রবণতা বিশ্ব খাদ্য ব্যবস্থাপনার চরম নৈতিক দেউলিয়াত্বকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।