ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর পাহাড়ি এলাকায় ঘুরে ক্ষতির চিত্র তুলে এনেছেন ডেইলি ওয়াদার জ্যেষ্ঠ আলোকচিত্রী আব্দুল গণি। নুয়াকোটসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তার তোলা ছবিগুলো দেখায়—পানি নেমে গেলেও বেঁচে যাওয়া মানুষদের লড়াই তখনই সবে শুরু।
কাদায় চাপা ঘরবাড়ি
বর্ণনায় তিনি লিখেছেন, সর্বত্র ছিল কাদা—দেয়ালে, ঘরে, রাস্তায়; কয়েকতলা ভবনের নিচতলা মাটিচাপা পড়ে এমন অবস্থা যে বাইরে দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে কারও একসময়ের শয়নকক্ষ দেখা যেত। কোথাও অর্ধচাপা ঘর থেকে বাসিন্দারা মালপত্র উদ্ধারে ব্যস্ত, কোথাও উদ্ধারকৃত জিনিস ছোট ট্রাকে তোলা হচ্ছে।
ভূমিদৃশ্য বদলে গেছে: একসময় নদী ছিল, এখন সেখানে ধূসর পললভরা বিশাল শুকনো তলদেশ; কিছু ভবন হেলে আছে, কিছু এতটাই মাটিচাপা যে শুধু ওপরের তলা দেখা যায়। এক জায়গায় বিধ্বস্ত ঘরের ভেতরে বিছানা-ছাড়া ঘরে লাল কাচের চুড়ি, চিরুনি, নীল ফ্রেমের আয়না, প্রসাধনী পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। "মাঝে মাঝে একটি ধসে পড়া দেয়ালের চেয়ে একটি চিরুনি বেশি কিছু বলে," লিখেছেন এই আলোকচিত্রী।
জীবনের প্রমাণ
অস্থায়ী শিবিরে নীল তাবুর সারিতে শিশুরা কার্ডবোর্ড দিয়ে খেলছিল; এক নারী কাদা চাপা ঘর থেকে শাবল দিয়ে পলি সরাচ্ছিলেন—জানালার ফ্রেম পর্যন্ত উঠে আসা কাদা খালি হাতে সরানো প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল। এক দেয়ালে নিখোঁজদের বিজ্ঞপ্তির সারি; পেছন থেকে দেখা যায় ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে এক নারী সেই দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে।
যাতায়াত ছিল কঠিন—অনেক জায়গায় রাস্তা ভেসে গেছে, গাড়ি আর এগোতে না পেরে ক্যামেরার ব্যাগ নিয়ে পাহাড়ি পথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে হয়েছে। তবু প্রতিটি নতুন বসতি থেকে মনে হয়েছে, দৃশ্যটি ধারণ করা জরুরি।
ছবির সীমা নিয়ে প্রশ্ন
লেখকের স্বীকারোক্তি: ছবি ঘর পুনর্নির্মাণ করতে পারে না, নিখোঁজ আত্মীয়কে খুঁজে দিতে পারে না। তবে তা মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে, প্রমাণ সংরক্ষণ করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—কোথায় দাঁড়াবেন, কত কাছে যাবেন, ছবিতে ধরা পড়া মানুষ কি জানেন তিনি সবচেয়ে সংবেদনশীল মুহূর্তটি রেকর্ড করছেন?
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা