ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
জাতীয়

রংপুরে ভুয়া পূজামণ্ডপের নামে ১,৮০০ কেজি চাল উত্তোলনের চেষ্টা, ধরা পড়ে 'প্রচার না করার' অনুরোধ

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অস্তিত্বহীন পূজামণ্ডপের নামে সরকারি চাল উত্তোলনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ভুয়া কাগজপত্রে ১ হাজার ৮০০ কেজি চাল তোলার পরিকল্পনা সাংবাদিকদের তৎপরতায় আটকে যায়, আর চালের ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দিতে বাধ্য হন গঙ্গাচড়া উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়।

রংপুরে ভুয়া পূজামণ্ডপের নামে ১,৮০০ কেজি চাল উত্তোলনের চেষ্টা, ধরা পড়ে 'প্রচার না করার' অনুরোধ

তিনটি মণ্ডপের নামে ফন্দি

পশ্চিম খাপড়িখাল, পুঁটিমারী পশ্চিমপাড়া এবং দোনদোড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির—এই তিন মণ্ডপের ভুয়া সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করে চাল বরাদ্দের কাগজ বের করেছিলেন তিনি। অথচ এসব মণ্ডপের প্রকৃত সভাপতিরা এ বছর পূজার আয়োজনই করেননি। এভাবে অস্তিত্বহীন বা নিষ্ক্রিয় মণ্ডপের নাম ব্যবহার করে সরকারি বরাদ্দের চাল হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

পুরনো অভিযোগও আছে

এর আগেও একই কায়দায় চাল আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তপন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে। গত বছর পূজা হয়নি এমন দুটি মণ্ডপের নামে ১ হাজার কেজি চাল উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বেতগাড়ী ইউনিয়নের মণ্ডপসংশ্লিষ্টদের দাবি, ঠাকুরপাড়া দুর্গামন্দিরের নামে বরাদ্দকৃত ৬০০ কেজি চাল না দিয়ে কমিটিকে মাত্র ১১ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, বাকি টাকা তিনি নিজে রেখেছেন। সরকারি অনুদানের টাকায় নিজের নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টার ছাপানোর অভিযোগও আছে।

ধরা পড়ে 'প্রচার না করার' অনুরোধ

সাংবাদিকদের কাছে ধরা পড়ার পর ডিও জমা দিয়ে তিনি ঘটনার খবর প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন, খবর প্রচার হলে তাঁর সম্মান থাকবে না। এই অনুরোধের জবাবে স্থানীয়দের অনেকেই হতবাক হয়েছেন—যিনি ধর্মীয় উৎসবের বরাদ্দের চাল আত্মসাতের চেষ্টা করলেন, তিনিই এখন জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং নিজের 'সম্মান' বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

ইউএনও জেসমিন আক্তার ডিও ফেরতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এত বড় জালিয়াতির পর কেবল কাগজ ফেরত দিয়েই তাঁর দায়মুক্তির প্রশ্নে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। সরকারি ত্রাণ ও অনুদানের চাল নিয়ে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।