ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। তার আগে মঙ্গলবার নরওয়ের অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে হওয়া আলোচনাকে "গঠনমূলক" বলে বর্ণনা করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
ছবি: রয়টার্স
অসলোর বৈঠকে জেলেনস্কির পাশাপাশি ছিলেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং ইউরোপীয় ও ন্যাটো প্রতিনিধিরা। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, ইউক্রেন নতুন ধারণা ও প্রস্তাব তুলে ধরেছে এবং রাশিয়াকে সম্পৃক্ত করার সমন্বিত পথে "অর্থবহ অগ্রগতি" হয়েছে।
আলোচনায় একটি সামগ্রিক শান্তি কাঠামোর মূল উপাদানগুলো উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, যুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং বৃহত্তর ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উইটকফ সরাসরি ত্রিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার পথ তৈরির চেষ্টা করবেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
জেলেনস্কির বার্তা
বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপের পর ইউক্রেন আবার রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা পেতে শুরু করেছে। "এখন এটা কাজ করছে, দারুণ," বলেন তিনি। রুবিওর সঙ্গে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ও স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জেলেনস্কির ভাষ্য, মার্কিন পক্ষ আবারও জোর দিয়ে বলেছে, এই নিশ্চয়তা "শক্তিশালী" হবে।
ট্রাম্পের চাপ
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার কিয়েভকে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ইউক্রেনকে এই যুদ্ধ মেটাতে চাইতে হবে।" রাশিয়ার সুবিধার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, "রাশিয়া একটা বড় যন্ত্র, তারা শুধু এগিয়ে যেতেই থাকে।"
ট্রাম্প সম্প্রতি রুশ ডিজেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় এবং কঠোরতর নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়ায় কংগ্রেসে দুই দলেরই সমালোচনা হয়েছে। ইউরোপীয় রাজধানীগুলোতেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রুবিও অবশ্য দাবি করেছেন, ইউক্রেনের ক্ষতি করার কোনো ইচ্ছাকৃত নির্দেশনা ওয়াশিংটন দেয়নি।
যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা থামেনি। রুশ বাহিনী পশ্চিম ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় আঘাত হেনেছে, কিয়েভের চারটি জেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা রেনি বন্দরে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স ও ডেইলি ওয়াদা