ঢাকা, ১৭ অক্টোবর: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যার মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার হন সুবর্ণাবাদ গ্রামের মোক্তার হোসেন খান (৫৩) ও নাজিরেরঘেরের আসাদুল ইসলাম মোল্যা (৪৬)।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচএম শাহীন জানান, তাঁর নেতৃত্বাধীন পুলিশ দল এই গ্রেপ্তার করে। দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যেভাবে ঘটনা
পুলিশ ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর দেবহাটায় শামীমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁর ভাই আব্দুল জলিল থানায় মামলা করেন। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, প্রধান আসামি ফজলুল হক আমেনি; বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি পলাতক ছিলেন। আরও ২০০ থেকে ২৫০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। জলিলের অভিযোগ, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ সাজিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পরিবারের ভাষ্যমতে, হত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের বাকবিতণ্ডার একটি অডিও রেকর্ডিং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ, আমেনি দাবি করেন ওই রেকর্ডিংয়ে ধর্ম অবমাননার কথা আছে এবং ফেসবুক লাইভে লোকজনকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। এরপর উত্তেজিত জনতা শামীমের বাড়ির ফটক ভাঙচুর করে তাঁকে সুবর্ণাবাদ বাজারে নিয়ে পেটায়। পরিবার আরও জানায়, শামীমকে সখিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে সেখানেও একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালায়। পুলিশ তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
সামাজিক মাধ্যমে উসকানি
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য সচিব আইনজীবী মুনীর উদ্দিনের অভিযোগ, ফেসবুক লাইভ ও পোস্টের মাধ্যমে উসকানি ছড়িয়ে শামীম হত্যার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাতক্ষীরা শাখার প্রধান সংগঠক মাধব দত্ত বলেন, মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস আছে বলে জানা একজন মানুষকে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা আইন ও মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন; সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বুধবার রাত ১২টা ৮ মিনিটে আমেনি ফেসবুকে শামীমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পোস্ট দেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে শুরু হওয়া ফেসবুক লাইভে তিনি শামীমের 'দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি' দাবি করেন। মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা