ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

সৌদি-ইসরায়েলে হামলায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে চীনা যন্ত্রাংশ: প্রতিবেদন

ওয়াশিংটন, ১৫ অক্টোবর: চীনে তৈরি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি গোষ্ঠী। সফল হলে এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে পারবে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সৌদি-ইসরায়েলে হামলায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে চীনা যন্ত্রাংশ: প্রতিবেদন

ইরানি নকশার অনুকরণে ক্ষেপণাস্ত্র

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা ইরানের 'খাইবার শেখান' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করছে। ২০২২ সালে তেহরান প্রথম এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শন করে। তুলনামূলক কম খরচে এটি তৈরি করা যায় এবং সহজে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়া যায়। ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, আবার মাঝআকাশে গতিপথ বদলে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতেও সক্ষম। ফলে প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে এটি ঠেকানো আরও কঠিন হবে।

সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে গবেষণাকারী সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের (সিএআর) অনুসন্ধান বলছে, ইরানি নকশায় তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ মাইলের বেশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের পুরো ভূখণ্ডই এর আওতায় চলে আসবে।

জব্দ চালানে চীনা যন্ত্রাংশ

ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ গত বছর হুতিদের দুটি চালান জব্দ করে, যেখানে অন্য পণ্যের আড়ালে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম নেওয়া হচ্ছিল। গত জুলাইয়ে এই তথ্য সিএআরকে জানায় কর্তৃপক্ষ। জব্দ সরঞ্জামের মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও মূল কাঠামো তৈরির বিশেষ ধাতব যন্ত্রাংশ এবং উড্ডয়নের সময় ভারসাম্য রক্ষাকারী পাখা। তদন্তকারীরা 'খাইবার শেখান'-এ ব্যবহৃত কঠিন জ্বালানির রকেট ইঞ্জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত যন্ত্রাংশও শনাক্ত করেছেন। এ ছাড়া ছিল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল এবং উড্ডয়নের প্রচণ্ড তাপ থেকে অংশবিশেষ রক্ষার বিশেষ তাপরোধী উপাদান।

চালানের নথিতে চীনের একটি সূক্ষ্ম ধাতব যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে, যারা নিজেদের মহাকাশযানের বিশেষায়িত যন্ত্রাংশের নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেয়। প্রতিবেদনে অবশ্য নামটি প্রকাশ করা হয়নি। কিছু যন্ত্রাংশ বেসামরিক কাজে লাগানো গেলেও কয়েকটি বিশেষভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য নকশা করা, ফলে এই সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন

ইয়েমেনের ওপর নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক পর্ষদের সাবেক বিশেষজ্ঞ হেনরি টমসন বলেন, প্রাপ্ত প্রমাণ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই বছর ধরে চীন থেকে কঠিন জ্বালানিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ আমদানি করছে হুতিরা। তাঁর ভাষ্য, মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সহায়তায় হুতিরা সৌদি আরবের অনেক ভেতরেও আঘাত হানতে পারবে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের চেয়ে বেশি বিস্ফোরকও বহন করা যাবে, যা তাদের আরও শক্তিশালী হুমকিতে পরিণত করবে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও অস্ত্রবিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের জন্য পাঠানো যেসব পণ্য জব্দ হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় উৎস চীনা প্রতিষ্ঠান। হুতিদের ওপর জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তবু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীনসহ নানা সরবরাহকারীর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করেছে তারা।

এদিকে বেইজিং জানিয়েছে, হুতিদের কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাকে তারা সম্মান করে। তবে তাদের মতে, বেসামরিক ও সামরিক ব্যবহারের পণ্যের পার্থক্য করা জরুরি, কারণ কিছু পণ্য দুই কাজেই লাগে, আবার কিছু বিশেষভাবে অস্ত্রের জন্যই তৈরি।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল