ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত দক্ষিণ ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর জন্য অর্থায়ন ফের চালু করতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, আর সৌদি আরব ওই বাহিনীগুলোকে আকাশ থেকে সুরক্ষা দিতে রাজি হয়েছে। ইয়েমেনের সূত্রের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। হুতিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে দুই উপসাগরীয় শক্তির মধ্যে ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর ফাটল কমার এটিই প্রথম বাস্তব লক্ষণ।
চুক্তির পটভূমি
চুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে দক্ষিণের বাহিনী, বিশেষত জায়ান্ট ব্রিগেডস—আমিরাতের প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নে গড়ে ওঠা এই ইউনিটগুলোকে বিভক্ত হুতি-বিরোধী জোটের সবচেয়ে কার্যকর বাহিনী হিসেবে গণ্য করা হয়। গত জানুয়ারিতে আমিরাত ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহার করে ওই বাহিনীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে; হুতিদের হামলায় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) নেতা আয়দারুস আল-জুবাইদি জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনজুড়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টার পর আবু ধাবিতে পালিয়ে যান; সৌদি আরব তখন এসটিসির উদ্দেশ্যে পাঠানো অস্ত্রের চালানে বোমাবর্ষণ করে।
ইডেনে হামলা, অগ্রযাত্রা অব্যাহত
শুক্রবার হুতিদের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ইডেন বিমানবন্দরে আঘাত হানে—একটি যেমেনিয়া এয়ারওয়েজের যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানির ভাষ্য, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি বিমানটির প্রায় ৫০০ মিটার এবং রানওয়ের মাঝখান থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে পড়ে; কোনো হতাহত হয়নি। এর আগের দিন ইডেনের প্রেসিডেনশিয়াল প্রাসাদে হুতি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হন।
এদিকে সানা থেকে হুতিদের হটাতে গত সপ্তাহে পাল্টা অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে ইডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার, তবে মারিবের কাছে মাজজার ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে অগ্রগতি সীমিত।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকার অনুমোদন চাইতে তিনি জরুরি সংসদ অধিবেশন ডাকবেন—তবে মিশর কোনো আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেবে না। যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে একটি আরএএফ ভয়েজার আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পাঠিয়েছে। ১৫ অক্টোবর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। আগস্ট থেকে যুদ্ধে দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা, দ্য গার্ডিয়ান